কেন্দ্রীয় বিভাগসমূহ

কেন্দ্রীয় রেলওয়ে – বিভাগসমূহ (রেলওয়ে পরীক্ষা বিশেষ GK)

কেন্দ্রীয় রেলওয়ে (CR) – মুম্বাই সদর দপ্তর বিশিষ্ট এই জোন ৫টি মণ্ডলে (Divisions) বিভক্ত। প্রতিটি মণ্ডলের বৈশিষ্ট্য, প্রযুক্তিগত বিবরণ, ঐতিহাসিক ঘটনা ও বর্তমান অবস্থা পরীক্ষায় বারবার জিজ্ঞাসিত হয়। নীচে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত-কিন্তু-সমগ্র নোট দেওয়া হল।


১. মুম্বাই বিভাগ (CSMT)

  • সদর দপ্তর (HQ): মুম্বাই CSMT (পূর্বে বোরি বন্দর)
  • দেশে সর্বপ্রথম: ১৮৫৩ সালে প্রথম যাত্রী ট্রেন (বোরি বন্দর → থানে, ৩৪ কিমি, ১৬ এপ্রিল)
  • প্রধান গেজ: ব্রড-গেজ (১৬৭৬ মিমি); পূর্বে MG (নেৰুল-পানভেল) ২০০৪ পর্যন্ত
  • কোচিং ডিপো: মুম্বাই CSMT, কুর্লা, সানপাড়া (EMUs), মহালক্ষ্মী (DEMU)
  • বিদ্যুতায়ন: ২৫ kV AC, ১৯২৫ থেকে শুরু, ২০২০ পর্যন্ত ১০০ % ডাবল ও ট্রিপল লাইন
  • সিগন্যালিং: কেন্দ্রীভূত ট্রাফিক কন্ট্রোল (CTC) + MSTC; ২০২৩ সালে দেশের প্রথম “অটোমেটিক ট্রেন প্রোটেকশন (কবচ)” সেকশন – CSMT-কাল্যাণ
  • মালবাহী: ওয়াডালা, সেউরি, কুর্লায় কন্টেইনার ও POL সাইডিং; ২০২২-২৩ সালে ৪৩ MT মাল
  • টার্মিনাল: CSMT, LTT, DR, দাদর, চার্চগেট (শুদ্ধ উপনগরীয়)

২. ভুসাওয়াল বিভাগ

  • HQ: ভুসাওয়াল (মহারাষ্ট্র) – ১৮৬৭ সালে খোলা
  • রুট কিমি: ২,০৬১ কিমি (CR-এর বৃহত্তম মণ্ডল)
  • প্রধান গতি-রেখা:
    • হাওড়া-মুম্বাই নাগপুর হয়ে (GR “A” রুট, ১৩০ কিমিপ্রতি ঘণ্টা আপগ্রেডযোগ্য)
    • ভুসাওয়াল-খান্ডোয়া (প্রস্তাবিত RRTS/দিল্লি-মুম্বাই HSR সমান্তরাল)
  • ভারতের দীর্ঘতম রেল-সুরঙ্গ-খাড়া: “ভুসাওয়াল-খান্ডোয়া” ঘাট সেকশনে ২৮ তালা ও ১৩ টানেল (২.৮ কিমি দীর্ঘতম)
  • বিদ্যুতায়ন: ১৯৬৭ থেকে, এখন ১০০ % (২৫ kV AC)
  • ফ্রেট করিডোর: পূর্ব DFC (ভুসাওয়াল-কালিয়ান বাইপাস) থেকে ১৮ কিমি দূরত্বে
  • ওভারহেড/ইঞ্জিন শেড: BSL – ১৯০+ ইঞ্জিন (WAG-9, WAP-7), ইন্ডিয়ান অয়েল RORO সাইডিং
  • মাল কমিশনার: ২০২২-২৩ – ৬৫ MT (CR-এ সর্বাধিক)

৩. পুনে বিভাগ

  • HQ: পুনে – ১৮৫৮ সালে পুনে-শোলাপুর খোলা হয়
  • রুট কিমি: ১,০৮৭ কিমি
  • প্রধান পার্বত্য পথ: লোনাভালা-ঘাট (৬৫২ মিটার AMSL), ১ in ৩৭ গ্রেডিয়েন্ট, ২৫ খুঁটি
  • রেল-সুরঙ্গ: ২০ (সর্বাধিক “ঠাকুরওয়াড়ি-২” ৩.৪ কিমি)
  • ডিব্বা মেরামত: ‘খড়কি’ – ভারতের একমাত্র “ডিফেন্স রেল-কোচ ওয়ার্কশপ”
  • অটো-হাব: PCMC, জেজুরি, দাউন্দ; জাগুয়ার-ল্যান্ডরোভার, মার্সিডিজ রো-রো র্যাক্স
  • বিদ্যুতায়ন: ২০২০ পর্যন্ত সম্পূর্ণ; ‘পুশ-পুল’ EMU (পুনে-দাউন্দ) ২০২২ থেকে
  • শিল্প সাইডিং: ৪৫ (জওহরলাল নেহেরু পোর্ট ট্রাস্ট, BPCL, টাটা মোটরস)

৪. সোলাপুর বিভাগ

  • HQ: সোলাপুর – গঠন ২০০৩ (পূর্বে পুনে থেকে)
  • রুট কিমি: ১,০৩৬ কিমি
  • গুরুত্বপূর্ণ রুট:
    • সোলাপুর-গাদাগ (দক্ষিণ-মধ্য সংযোগ), বিশ্ব ব্যাংক অর্থায়ন
    • সোলাপুর-তুলজাপুর (ধর্মীয়, ২০২২ সালে দ্বৈতকরণ অনুমোদিত)
  • কোচিং ডিপো: সোলাপুর, কুর্দুওয়াড়ি (দেশি EMU পিট)
  • মাল কার্যকলাপ: ২০২২-২৩ – ১৪ MT (চিনি, সয়াবিন, সিমেন্ট)
  • রেলওয়ে স্টেডিয়াম: সোলাপুর – মাত্র ২টির মধ্যে একটি (অপরটি – ভিলাই)

৫. নাগপুর বিভাগ

  • HQ: নাগপুর – ১৮৬৭ সালে প্রথম ট্রেন (নাগপুর-ছিন্দওয়ারা)
  • রুট কিমি: ১,০৮৭ কিমি (মিশ্রিত BG/MG; MG ২০১৮ সালে সমাপ্ত)
  • ভারতের ভৌগোলিক কেন্দ্র: “জিরো-মাইল” পাথর রেলওয়ে স্টেশনে
  • ফ্রেট করিডোর: পূর্ব DFC (খুর্দা রোড-নাগপুর) ও পশ্চিম DFC (নাগপুর-মুম্বাই) সংযোগস্থল
  • কোচিং/গুডস শেড: আজনি – ১৬০০ কিমি দূর “রাজধানী” রক্ষণাবেক্ষণ অনুমোদন
  • ২০২৩ সালে নতুন রেল-সেতু: “দীক্ষাভূমি ROB” – ৬০ মিটার সিঙ্গেল-স্প্যান কম্পোজিট গার্ডার
  • ওভার-রাইড: গোন্দিয়া-বালাঘাট সেকশনে “ZBS” (জিরো-বেসড সিগন্যালিং) পাইলট

ঐতিহাসিক ঘটনাবলী (ক্রোনোলজি)

বছর ঘটনা
১৮৫৩ প্রথম যাত্রী ট্রেন CSMT-থানে
১৯২৫ ভারতের প্রথম ১.৫ kV DC ট্র্যাকশন (ভিক্টোরিয়া টার্মিনাস-কাল্যাণ)
১৯৬৭ ভুসাওয়াল বিভাগ গঠিত (পূর্বে GIPR)
১৯৫১ কেন্দ্রীয় রেলওয়ে জোন অস্তিত্বে (নব-ভারতীয় পুনর্গঠন)
২০১৪ CSMT ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য
২০২০ পুনে বিভাগ – ১০০ % বিদ্যুতায়ন
২০২২ CSMT-কাল্যাণ – প্রথম কবচ ATP সেকশন
২০২৩ ভুসাওয়ালে ৬ষ্ঠ পিট-লাইন ও ৯ম RUB/ROB অনুমোদিত

বর্তমান অবস্থা ও হালনাগাদ

  • ২০২৩-২৪ রেল-বাজেট:
    • মুম্বাই উপনগরীয়: ৬ষ্ঠ ও ৭ম লাইন (CSMT-কুর্লা) ৭৫ % সম্পূর্ণ
    • পুনে-বেঙ্গালুরু ৩য় লাইন: ৩৮ কিমি তালাঠি-টেন্ডার হয়েছে
    • ভুসাওয়াল-আকোলা ৩য় লাইন: ২০২৫ পর্যন্ত লক্ষ্য
  • স্টেশন পুনঃউন্নয়ন: CSMT (ધ ২৫০ কোটি), সোলাপুর (G+6) PPP মডেল
  • বন্দে ভারত: মুম্বাই-সোলাপুর (VB-2) ২০২৩-সেপ্টেম্বর থেকে; নাগপুর-বিলাসপুর VB-3 ২০২৪-প্রস্তাবিত
  • সবুজ উদ্যোগ: আজনি ও কুর্লা – ৩ MW সৌরছাদ; পুনে – LED ১০০ %
  • নিরাপত্তা: ২০২২-২৩ সালে CR-এ “জিরো প্যাসেঞ্জার ফ্যাটালিটি” (প্রথমবার)

দ্রুত-পুনরালোচনা টেবিল

মণ্ডল HQ কিমি বৃহত্তম জংশন দীর্ঘতম সেতু/টানেল বিদ্যুতায়ন
মুম্বাই CSMT ১,০৫৪ কাল্যাণ (৭ রুট) পানভেল-উরান সমুদ্র-খাঁড়ি (৩.২ কিমি) ১০০ %
ভুসাওয়াল BSL ২,০৬১ ভুসাওয়াল (৬ রুট) তাপ্তি-২ টানেল (২.৮ কিমি) ১০০ %
পুনে পুনে ১,০৮৭ পুনে (৫ রুট) ঠাকুরওয়াড়ি-২ (৩.৪ কিমি) ১০০ %
সোলাপুর SUR ১,০৩৬ সোলাপুর (৪ রুট) সিনা নদী (১.৮ কিমি) ১০০ %
নাগপুর NGP ১,০৮৭ আজনি-গোন্দিয়া (৫ রুট) দীক্ষাভূমি ROB (৬০ মি) ১০০ %

ব্যবহারে আসা প্রধান স্টেশন-কোড

CSMT, DR, LTT, KYN, PNVL, BSL, NGP, AJNI, PURI, PUNE, SUR, KWV, DD, BPQ


১৫+ গুরুত্বপূর্ণ বহু-বিকল্প প্রশ্ন (MCQs)

১. কেন্দ্রীয় রেলওয়ের বৃহত্তম মণ্ডল কোনটি? **উত্তর**: ভুসাওয়াল বিভাগ
২. ভারতের প্রথম যাত্রী ট্রেন কোন মণ্ডলে চলেছিল? **উত্তর**: মুম্বাই বিভাগ
৩. নাগপুর বিভাগের HQ কোন স্টেশন? **উত্তর**: নাগপুর
৪. CSMT-কাল্যাণ খণ্ডে কোন ATP পদ্ধতির ২০২২ সালে ট্রায়াল হয়েছিল? **উত্তর**: কবচ
৫. “ডিফেন্স রেল-কোচ ওয়ার্কশপ” কোন মণ্ডলে অবস্থিত? **উত্তর**: পুনে বিভাগ, খড়কি
৬. কেন্দ্রীয় রেলওয়েতে সর্বাধিক মাল লোডিং (২০২২-২৩) কোন মণ্ডল থেকে হয়েছিল? **উত্তর**: ভুসাওয়াল বিভাগ
৭. লোনাভালা-ঘাটে সর্বোচ্চ গ্রেডিয়েন্ট হল— **উত্তর**: ১ in ৩৭
৮. সোলাপুর বিভাগের প্রতিষ্ঠা কোন বছর হয়েছিল? **উত্তর**: ২০০৩
৯. “জিরো-মাইল” পাথর কোন স্টেশনে অবস্থিত? **উত্তর**: নাগপুর
১০. কেন্দ্রীয় রেলওয়েতে প্রথম ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য স্টেশন? **উত্তর**: মুম্বাই CSMT
১১. ঠাকুরওয়াড়ি-২ সুরঙ্গ (৩.৪ কিমি) কোন মণ্ডলে আছে? **উত্তর**: পুনে বিভাগ
১২. ২০২৩-২৪ বাজেটে CSMT-কুর্লা কতগুলি লাইন প্রস্তাবিত? **উত্তর**: ৭ম লাইন (৬টি পূর্বে আছে)
১৩. ভুসাওয়ালের ইঞ্জিন শেডে কতগুলি WAG-9/WAP-7 ইঞ্জিন আছে (প্রায়)? **উত্তর**: ১৯০+
১৪. পুনে বিভাগে কোন নদীতে দীর্ঘতম রেল-সেতু আছে? **উত্তর**: সিনা নদী (সোলাপুর) – ১.৮ কিমি
১৫. আজনি (নাগপুর) কোচিং ডিপোর বিশেষত্ব হল? **উত্তর**: রাজধানী রেক মেনটেন্যান্স সুবিধা

শর্ট-ট্রিক্স

  • “MB-PBS” → মুম্বাই-ভুসাওয়াল-পুনে = CR-এর তিনটি প্রাচীনতম মণ্ডল
  • “S-N” → সোলাপুর-নাগপুর = ২০০০-এর পরে গঠিত নতুন মণ্ডল
  • ১০০ % বিদ্যুতায়ন → CR সমস্ত ৫টি মণ্ডলে ২০২০-২৩-এর মধ্যে সম্পূর্ণ