এসসি বিভাগসমূহ
দক্ষিণ মধ্য রেল – বিভাগীয় বিবরণ (এসসি বিভাগসমূহ)
১. ভূমিকা
দক্ষিণ মধ্য রেল (SCR) ভারতীয় রেলের ১৯টি অঞ্চলের মধ্যে একটি। সদর দপ্তর সেকেন্দ্রাবাদে (তাই টেলিগ্রাফ কোড “SC”) অবস্থিত, এটি ২-১০-১৯৬৬ তারিখে দক্ষিণ রেল থেকে পৃথক করা হয়েছিল। SCR-এর বর্তমানে ৬টি সক্রিয় বিভাগ রয়েছে যাদের সম্মিলিত রুট-কিমি, ট্রাফিক ঘনত্ব এবং অবকাঠামো এই অঞ্চলটিকে উত্তর-দক্ষিণ ও পূর্ব-পশ্চিম করিডোর সংযোগকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রাঙ্ক রুটে পরিণত করেছে।
২. প্রযুক্তিগত চিত্র (২০২৩-২৪)
| পরামিতি | SCR অঞ্চল | সর্বভারতীয় র্যাঙ্ক |
|---|---|---|
| রুট-কিমি | ৫,৯৭৫ কিমি (IR-এর ৩.৭ %) | ৭ম |
| চলমান ট্র্যাক-কিমি | ৮,৮৪০ কিমি | ৬ষ্ঠ |
| বিদ্যুতায়িত রুট | ৫,৩৪০ কিমি (৮৯.৪ %) | ৪র্থ |
| বিভাগের সংখ্যা | ৬ | – |
| গড় দৈনিক মালবাহী লোডিং | ২.০৫ মেট্রিক টন | ৩য় |
| গড় দৈনিক যাত্রী আয় | ₹১০.৪ কোটি | ৪র্থ |
| কর্মী সংখ্যা | ১.০২ লক্ষ | ৫ম |
৩. SCR বিভাগসমূহ – মূল তথ্য ও পরিসংখ্যান
| বিভাগ | গঠনের তারিখ | সদর দপ্তর | রুট-কিমি (২০২৪) | মূল কর্মশালা | প্রধান জংশন | স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|---|---|---|---|
| সেকেন্দ্রাবাদ | ০২-১০-১৯৬৬ | সেকেন্দ্রাবাদ | ১,১৪১ | সেকেন্দ্রাবাদ, লালাগুড়া | সেকেন্দ্রাবাদ, কাজিপেট, বিকারাবাদ | আঞ্চলিক সদর দপ্তর; যমজ শহর উপনগরী; হায়দ্রাবাদ মেট্রো রেল ইন্টারফেস |
| বিজয়ওয়াড়া | ০২-১০-১৯৬৬ | বিজয়ওয়াড়া | ১,২৭৪ | বিজয়ওয়াড়া, রায়ানাপাড়ু | বিজয়ওয়াড়া, গুন্টুর, তেনালি | ব্যস্ততম জংশন (৩৮৫ ট্রেন/দিন); IR-এ ৪র্থ বৃহত্তম মালবাহী লোডিং |
| গুন্টকাল | ০২-১০-১৯৬৬ | গুন্টকাল | ১,০৯৭ | গুন্টকাল, পোনমালাই (গোল্ডেন রক) | গুন্টকাল, গূটি, রেনিগুন্টা | BG ও MG উভয় বিভাগ সহ একমাত্র SCR বিভাগ (২০০৭ পর্যন্ত); ডিজেল ঐতিহ্য |
| গুন্টুর | ০১-০৪-২০০৩ (বিজয়ওয়াড়া থেকে বিভক্ত) | গুন্টুর | ৬৩০ | – | গুন্টুর, নল্লাপাড়ু, পিডুগুরাল্লা | সম্পূর্ণ BG; ভারী তুলা ও মরিচ মালবাহী; নতুন গুন্টুর–অমরাবতী লাইন |
| হায়দ্রাবাদ | ০১-০৪-২০০৩ (সেকেন্দ্রাবাদ থেকে বিভক্ত) | হায়দ্রাবাদ | ৫০৭ | – | হায়দ্রাবাদ, লিঙ্গামপল্লী, ফালাকনুমা | শহরকেন্দ্রিক কমিউটার পরিষেবা; MMTS দ্বিতীয় পর্যায়; ৩য় রেল ২৫ কেভি এসি |
| নান্দেড় | ০১-০৪-২০০৩ (সেকেন্দ্রাবাদ থেকে বিভক্ত) | নান্দেড় | ৩২৪ | – | নান্দেড়, পুরনা, পরভানি | মরাঠওয়াড়া অঞ্চল; তুলা ও সয়াবিন বল্ট; নতুন নান্দেড়-হিঙ্গোলি ডাবলিং |
৪. ঐতিহাসিক মাইলফলক
- ১৯৬৬: SCR-এর জন্ম ৩টি বিভাগ নিয়ে – সেকেন্দ্রাবাদ, বিজয়ওয়াড়া, গুন্টকাল।
- ১৯৭৯: কাজিপেট–বলহারশাহ ৩য় লাইন চালু – SCR-এ প্রথম ৩-লাইন বিভাগ।
- ১৯৯৩: “সাতবাহন এক্সপ্রেস” চালু (IR-এর প্রথম ISO-প্রত্যয়িত ট্রেন) বিজয়ওয়াড়া ও সেকেন্দ্রাবাদের মধ্যে।
- ২০০৩: ত্রি-বিভাজন গুন্টুর, হায়দ্রাবাদ ও নান্দেড় বিভাগ সৃষ্টি করে প্রশাসন ও সময়নিষ্ঠতা উন্নত করতে।
- ২০১২: SCR ১০০ % কম্পিউটারাইজড PRS অঞ্চলে পরিণত হয়।
- ২০১৯: পুরো SCR রুট RLDA এর অধীনে আনা হয় স্টেশন পুনঃউন্নয়নের জন্য (সেকেন্দ্রাবাদ, বিজয়ওয়াড়া, গুন্টকাল নির্বাচিত)।
- ২০২২: কাজিপেট–বিজয়ওয়াড়া ৪র্থ লাইন চালু – দক্ষিণ ভারতে প্রথম ৪-লাইন করিডোর।
- ২০২৩: SCR “সেরা আঞ্চলিক দক্ষতা” শিল্ড জিতে (+১১ % ইনক্রিমেন্টাল ফ্রেইট লোডিং-এর জন্য)।
৫. অবকাঠামো ও প্রকৌশল বৈশিষ্ট্য
৫.১ ট্র্যাক ও সেতু
- দীর্ঘতম সেতু: রাজামুন্দ্রীতে গোদাবরী সেতু – ২.৮ কিমি (বিজয়ওয়াড়া বিভাগ)।
- সর্বোচ্চ শাসক গ্রেডিয়েন্ট: ১:৬০ (ঘাট বিভাগ) – ব্রাগাঞ্জা ঘাট (গুন্টকাল–ভাস্কো)।
- দীর্ঘতম টানেল: ২.৮ কিমি – পাতালগঙ্গা টানেল (কাজিপেট–বলহারশাহ ৩য় লাইন)।
৫.২ ট্র্যাকশন
- ২৫ কেভি এসি ০৫-০৯-২০২২ তারিখে সম্পন্ন; শেষ বিভাগ নিজামাবাদ–পুরনা শক্তিপ্রাপ্ত।
- টুইন-ট্রান্সফরমার ১২-কার EMU রেক হায়দ্রাবাদ MMTS-এ চালু (২০২১)।
৫.৩ সংকেত ব্যবস্থা
- ৮০ % রুট RRI/ECR দ্বারা সজ্জিত; ৩৫০ স্টেশন কেন্দ্রীভূত ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ (CTC)-এ।
- কবচ (ট্রেন সংঘর্ষ এড়ানোর ব্যবস্থা): বিজয়ওয়াড়া–গুডুর মধ্যে পাইলট (২০২৩)।
৫.৪ কর্মশালা
| কর্মশালা | বিভাগ | বার্ষিক POH ক্ষমতা | বিশেষত্ব |
|---|---|---|---|
| লালাগুড়া | সেকেন্দ্রাবাদ | ২৫০ লোকো | IR-এ প্রথম WAG-12 HOG ১২,০০০ HP লোকো POH করতে সক্ষম |
| রায়ানাপাড়ু | বিজয়ওয়াড়া | ১,২০০ কোচ | CBC ও LHB রূপান্তর কেন্দ্র |
| গোল্ডেন রক (পোনমালাই) | গুন্টকাল | ১,০০০ কোচ | নীলগিরি মাউন্টেন রেলওয়ে ঐতিহ্যবাহী স্টকের জন্য একমাত্র পিট |
| গুন্টকাল ডিজেল শেড | গুন্টকাল | ১৮০ লোকো | বৃহত্তম EMD GT46MAC (৫৫০০ HP) বহর |
৬. বর্তমান অবস্থা ও সাম্প্রতিক আপডেট (২০২৪)
- অমৃত ভারত স্টেশন স্কিম: সেকেন্দ্রাবাদ (₹৭২০ কোটি), বিজয়ওয়াড়া (₹৫৫০ কোটি), গুন্টকাল (₹১৯০ কোটি) অনুমোদিত।
- নতুন বিভাগ প্রস্তাব: তেলেঙ্গানা সরকার ওয়ারাঙ্গল কে ৭ম বিভাগ হিসেবে অনুরোধ করেছে (বিবেচনাধীন)।
- সেমি-হাই স্পিড: বন্দে ভারত (২.০) এর ট্রায়াল রান বিজয়ওয়াড়া–চেন্নাই রুটে ১৬০ কিমি/ঘণ্টা গতিতে পৌঁছেছে (ফেব্রুয়ারি ২০২৪)।
- সবুজ শক্তি: SCR সেকেন্দ্রাবাদ স্টেশনে ৫ মেগাওয়াট সৌর ছাদ চালু করেছে – আঞ্চলিক রেকর্ড।
- মালবাহী করিডোর: কৃষ্ণপত্তনম–রায়চুর নতুন লাইন (১৮০ কিমি) বাজেট ২০২৪-২৫-এ অনুমোদিত – বিজয়ওয়াড়া বাইপাস করে নতুন মালবাহী সার্কিট তৈরি করবে।
৭. MCQ – SCR বিভাগসমূহ
১. দক্ষিণ মধ্য রেল কোন তারিখে গঠিত হয়েছিল?
২ অক্টোবর ১৯৬৬
২. SCR-এর সর্বাধিক নতুন বিভাগ কোনটি?
নান্দেড় (২০০৩)
৩. গুন্টকাল বিভাগের সদর দপ্তর কোন রাজ্যে অবস্থিত?
অন্ধ্রপ্রদেশ
৪. ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী কোন SCR বিভাগের রুট-কিমি দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি?
বিজয়ওয়াড়া (১,২৭৪ কিমি)
৫. SCR-এর দীর্ঘতম রেল সেতু, গোদাবরী সেতু, কোন বিভাগে অবস্থিত?
বিজয়ওয়াড়া
৬. SCR কোন বছর ১০০ % বিদ্যুতায়িত হয়েছিল?
২০২২
৭. SCR-এর কোন কর্মশালা WAG-12 HOG লোকোমোটিভ POH করতে সজ্জিত?
লালাগুড়া
৮. ভারতীয় রেলের প্রথম ISO-প্রত্যয়িত ট্রেন, "সাতবাহন এক্সপ্রেস", কোন দুটি স্টেশনের মধ্যে চলে?
বিজয়ওয়াড়া – সেকেন্দ্রাবাদ
৯. কোন বিভাগকে বিভক্ত করে হায়দ্রাবাদ ও নান্দেড় উভয় বিভাগ সৃষ্টি করা হয়েছিল?
সেকেন্দ্রাবাদ
১০. কাজিপেট–বিজয়ওয়াড়া ৪র্থ লাইন কোন সালে চালু হয়েছিল?
২০২২
১১. নীলগিরি মাউন্টেন রেলওয়ের ঐতিহ্যবাহী স্টক SCR-এর কোন কর্মশালায় POH করা হয়?
গোল্ডেন রক (পোনমালাই)
১২. নিচের কোন বিভাগের লোকো শেড নেই?
গুন্টুর
১৩. তেলেঙ্গানা সরকারের দাবিকৃত, SCR-এর প্রস্তাবিত ৭ম বিভাগটি হল?
ওয়ারাঙ্গল
১৪. SCR-এর সর্বাধিক মালবাহী লোডিং বিভাগ কোনটি?
বিজয়ওয়াড়া
১৫. SCR-এ প্রথম কোন বিভাগে ৩য় লাইন চালু হয়েছিল?
কাজিপেট–বলহারশাহ (১৯৭৯)
১৬. কোন বিভাগ হায়দ্রাবাদ মাল্টি-মোডাল ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম (MMTS) পরিচালনা করে?
হায়দ্রাবাদ
১৭. গুন্টকালের ডিজেল লোকো শেডে কোন উচ্চ-অশ্বশক্তির EMD শ্রেণির লোকো রয়েছে?
GT46MAC (৫৫০০ HP)