অধ্যায় ০৮ বড় ভাই সাহেব

প্রেমচন্দ
সন্ ১৮৮০-১৯৩৬

৩১ জুলাই ১৮৮০ সালে বনারসের কাছে লমহী গ্রামে জন্মগ্রহণকারী ধনপত রায় উর্দুতে নবাব রায় এবং হিন্দিতে প্রেমচন্দ নামে লেখালেখি করতেন। ব্যক্তিগত আচরণ ও চিঠিপত্র তিনি ধনপত রায় নামেই করতেন। উর্দুতে প্রকাশিত প্রথম গল্প সংকলন ‘সোজে-ওয়াতন’ ইংরেজ সরকার বাজেয়াপ্ত করে নেয়। জীবিকার জন্য স্কুল মাস্টারি, ইন্সপেক্টরি, ম্যানেজারি করার পাশাপাশি তিনি ‘হংস’, ‘মাধুরী’ ইত্যাদি প্রধান পত্রিকার সম্পাদনাও করেছেন। কিছু সময় বোম্বাই (মুম্বাই) এর চলচ্চিত্র নগরীতেও কাটিয়েছেন কিন্তু সেটা তার ভালো লাগেনি। যদিও তার অনেক রচনার উপর স্মরণীয় চলচ্চিত্র তৈরি হয়েছে।

সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্টের অতুলনীয় চিত্রকর প্রেমচন্দকে তার জীবদ্দশাতেই গল্প সম্রাট, উপন্যাস সম্রাট বলা শুরু হয়েছিল। তিনি হিন্দি গল্প লেখার রীতি পুরোপুরি বদলে দিয়েছিলেন। তার রচনায় তিনি সেইসব মানুষকে প্রধান চরিত্র বানিয়ে সাহিত্যে স্থান দিয়েছেন যারা জীবন ও জগতে শুধু নির্যাতন ও কলঙ্কই পেয়েছিল।

৮ অক্টোবর ১৯৩৬ সালে তার দেহাবসান ঘটে। প্রেমচন্দ যত গল্প লিখেছেন সেগুলো সব ‘মানসরোবর’ শিরোনামে আট খণ্ডে সংকলিত। তার প্রধান উপন্যাসগুলো হল- গোদান, গবন, প্রেমাশ্রম, সেবাসদন, নির্মলা, কর্মভূমি, রঙ্গভূমি, কায়াকল্প, প্রতিজ্ঞা এবং মঙ্গলসূত্র (অসম্পূর্ণ)।


পাঠ প্রবেশ

এখনো তুমি ছোটো তাই এই কাজে হাত দিও না। এটি শুনেই অনেকবার শিশুদের মনে আসে, হায়, আমরা বড়ো হলে কেউ আমাদের এভাবে বাধা দিত না। কিন্তু এই ভুল ধারণায় থাকবেন না, কারণ বড়ো হওয়ার সাথে সাথে কিছু করার অধিকার পাওয়া যায় না। পরিবারের বড়ো সদস্যকে অনেকবার সেই কাজগুলোতে অংশ নেওয়া থেকেও নিজেকে বিরত রাখতে হয় যা তারই বয়সের অন্য ছেলেরা নির্ভয়ে করে থাকে। জানো কেন, কারণ সেই ছেলেরা তাদের নিজের বাড়িতে কারো চেয়ে বড়ো নয়।

প্রস্তুত পাঠেও একজন বড় ভাই সাহেব আছেন, যিনি আসলে ছোটোই, কিন্তু বাড়িতে তার চেয়ে ছোটো আরেকটি ভাই আছে। তার থেকে বয়সে মাত্র কয়েক বছর বড়ো হওয়ার কারণে তার থেকে বড়ো বড়ো প্রত্যাশা করা হয়। বড়ো হওয়ার দরুন তিনিও নিজে চান এবং চেষ্টা করেন যে তিনি যা-ই করুন না কেন সেটা ছোটো ভাইয়ের জন্য একটি আদর্শের কাজ করুক। এই আদর্শ অবস্থা বজায় রাখার চেষ্টায় বড়ো ভাই সাহেবের শিশুসুলভতা লুকিয়ে যায়।

বড়ো ভাই সাহেব

আমার ভাই সাহেব আমার থেকে পাঁচ বছর বড়ো, কিন্তু মাত্র তিন ক্লাস এগিয়ে। তিনিও সেই বয়সেই পড়া শুরু করেছিলেন, যখন আমি শুরু করি কিন্তু শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তিনি তাড়াহুড়ো করে কাজ নিতে পছন্দ করতেন না। এই ভবনের ভিত্তি খুব মজবুত করে দিতে চাইতেন, যার উপর দামী প্রাসাদ তৈরি হতে পারে। এক বছরের কাজ দুই বছরে করতেন। কখনো কখনো তিন বছরও লাগত। ভিত্তিই যদি পাকা না হয়, তবে বাড়ি কীভাবে টেকসই হবে?


আমি ছোটো ছিলাম, তিনি বড়ো ছিলেন। আমার বয়স ছিল নয় বছর, তার ছিল চৌদ্দ বছর। আমার তাম্বিহ (ডাঁট-ডপট) এবং নিগরানির (তদারকি) সম্পূর্ণ এবং জন্মগত অধিকার তার ছিল এবং আমার শালীনতা এটাতেই ছিল যে আমি তার হুকুমকে আইন বলে মানি।

তিনি স্বভাবতই খুব পড়ুয়া ছিলেন। সর্বদা বই খুলে বসে থাকতেন এবং সম্ভবত মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দিতে কখনো কপিতে, বইয়ের মার্জিনে পাখি, কুকুর, বিড়ালের ছবি আঁকতেন। কখনো কখনো একটি নাম বা শব্দ বা বাক্য দশ-বিশ বার লিখে ফেলতেন। কখনো একটি শেরকে (কবিতার চরণ) বারবার সুন্দর হরফে নকল করতেন। কখনো এমন শব্দ-রচনা করতেন, যার মধ্যে না কোনো অর্থ থাকত, না কোনো সামঞ্জস্য। উদাহরণস্বরূপ একবার তার কপিতে আমি এই ইবারত (লেখা) দেখেছি- স্পেশাল, আমিনা, ভাইয়োন-ভাইয়োন, দরআসল, ভাই-ভাই। রাধেশ্যাম, শ্রীযুত রাধেশ্যাম, এক ঘণ্টা পর্যন্ত- এর পরে একটি মানুষের মুখ আঁকা ছিল। আমি অনেক চেষ্টা করেছি এই ধাঁধার কোনো অর্থ বের করতে, কিন্তু ব্যর্থ হয়েছি। আর তাকে জিজ্ঞাসা করার সাহস হয়নি। তিনি নবম জমাত (ক্লাস) এ ছিলেন, আমি পঞ্চমে। তার রচনাগুলো বোঝা আমার পক্ষে ছোটো মুখে বড়ো কথা ছিল।

আমার মন পড়াশোনায় একেবারেই লাগত না। এক ঘণ্টাও বই নিয়ে বসা পাহাড় সমান ছিল। সুযোগ পেলেই হোস্টেল থেকে বেরিয়ে মাঠে চলে আসতাম এবং কখনো নুড়ি ছুড়তাম, কখনো কাগজের প্রজাপতি উড়াতাম এবং কোথাও কোনো সঙ্গী মিলে গেলে, তো জিজ্ঞাসাই কী। কখনো চারদেয়ালে চড়ে নিচে লাফ দিচ্ছি। কখনো ফটকে সওয়ার হয়ে, তাকে এগিয়ে-পিছে চালিয়ে মোটরগাড়ির আনন্দ উপভোগ করছি, কিন্তু ঘরে আসামাত্র ভাই সাহেবের সেই রুদ্র-রূপ দেখে প্রাণ শুকিয়ে যেত। তার প্রথম প্রশ্ন হতো- ‘কোথায় ছিলে’? সবসময় এই প্রশ্ন, এই ধ্বনিতে সবসময় জিজ্ঞাসা করা হতো এবং এর উত্তর আমার কাছে ছিল শুধু নীরবতা। জানি না আমার মুখ থেকে এই কথা কেন বের হতো না যে একটু বাইরে খেলছিলাম। আমার নীরবতা বলে দিত যে আমি আমার অপরাধ স্বীকার করছি এবং ভাই সাহেবের পক্ষে তার সিভা অন্য কোনো উপায় ছিল না যে স্নেহ এবং রোষ মিশ্রিত শব্দে আমার সৎকার (সম্মান) করেন।

“এভাবে ইংরেজি পড়বে, তবে জীবনভর পড়তে থাকবে এবং একটি হরফও (অক্ষর) আসবে না। ইংরেজি পড়া কোনো হাসি-খেলা নয় যে যার ইচ্ছা, পড়ে নেবে, না হলে এরাগেরা নত্থু-খেরা সবাই ইংরেজির বিদ্বান হয়ে যায়। এখানে রাত-দিন চোখ ফোড়তে হয় এবং রক্ত পুড়িয়ে ফেলতে হয়, তবেই কিনা এই বিদ্যা আসে। আর আসে কী, হ্যাঁ বলার মতো আসে। বড়ো বড়ো বিদ্বানরাও শুদ্ধ ইংরেজি লিখতে পারে না, বলা তো দূরের কথা। আর আমি বলছি, তুমি কতটা ঘোঁঘা (ধীর) যে আমাকে দেখেও সাবক (শিক্ষা) নাও না। আমি কত পরিশ্রম করি, এটা তুমি নিজের চোখে দেখো, যদি না দেখো, তবে এটা তোমার চোখের কসুর (দোষ), তোমার বুদ্ধির কসুর। এত মেলা-তামাশা হয়, আমাকে তুমি কখনো দেখতে যেতে দেখেছ? প্রতিদিনই ক্রিকেট ও হকি ম্যাচ হয়। আমি পাশে ফটকাই না (যাই না)। সবসময় পড়ে থাকি। তার উপরেও এক-এক দরজায় (ক্লাসে) দুই-দুই, তিন-তিন বছর পড়ে থাকি, তবুও তুমি কীভাবে আশা করো যে তুমি এভাবে খেলাধুলায় সময় নষ্ট করে পাস হয়ে যাবে? আমার তো দুইই তিন বছর লাগে, তুমি জীবনভর এই দরজায় পড়ে পচতে থাকবে? যদি তোমার এভাবে জীবন নষ্ট করতে হয়, তবে ভালো হয়, বাড়ি চলে যাও এবং মজা করে গুল্লি-ডান্ডা খেলো। দাদার গাঁথা (কষ্টার্জিত) উপার্জনের টাকা কেন নষ্ট করছ?”

আমি এই লতাড় (ডাঁট) শুনে কান্না করতে শুরু করতাম। উত্তরই বা কী ছিল। অপরাধ তো আমি করেছি, লতাড় কে সহ্য করে? ভাই সাহেব উপদেশের কলায় নিপুণ ছিলেন। এমন এমন লাগত কথা বলতেন, এমন এমন সূক্তি-বাণ (তীক্ষ্ণ বাক্য) চালাতেন যে আমার জিগরের (কলিজার) টুকরো টুকরো হয়ে যেত এবং হিম্মত ভেঙে যেত। এভাবে জান (জীবন) তোড়ে (পুরোপুরি) মেহনত করার শক্তি আমি নিজের মধ্যে পেতাম না এবং সেই নিরাশায় একটু সময়ের জন্য আমি ভাবতে শুরু করতাম- ‘কেন না বাড়ি চলে যাই। যে কাজ আমার বোতের (ক্ষমতার) বাইরে, তাতে হাত দিয়ে কেন নিজের জীবন নষ্ট করব।’ আমি আমার মূর্খ থাকা মেনে নিতে রাজি ছিলাম, কিন্তু ওতটা মেহনত করতে আমার তো মাথা ঘুরে যেত, কিন্তু ঘণ্টা-দুই ঘণ্টার পরে নিরাশার মেঘ ফেটে যেত এবং আমি ইচ্ছা করতাম যে আগামীতে খুব মন লাগিয়ে পড়ব। চটপট একটি টাইম-টেবিল বানিয়ে ফেলতাম। আগে থেকে নকশা বানানো ছাড়া কোনো স্কিম তৈরি করা ছাড়া কাজ কীভাবে শুরু করব। টাইম-টেবিলে খেলাধুলার স্থান একেবারে উড়ে যেত। প্রাতঃকাল ছয়টায় উঠা, মুখ-হাত ধোয়া, নাস্তা করা, পড়তে বসে যাওয়া। ছয় থেকে আট পর্যন্ত ইংরেজি, আট থেকে নয় পর্যন্ত হিসাব,

নয় থেকে সাড়ে নয় পর্যন্ত ইতিহাস, তারপর ভোজন এবং স্কুল। সাড়ে তিনটায় স্কুল থেকে ফিরে আধা ঘণ্টা আরাম, চার থেকে পাঁচ পর্যন্ত ভূগোল, পাঁচ থেকে ছয় পর্যন্ত গ্রামার, আধা ঘণ্টা হোস্টেলের সামনেই হাঁটা, সাড়ে ছয় থেকে সাত পর্যন্ত ইংরেজি কম্পোজিশন, তারপর ভোজন করে আট থেকে নয় পর্যন্ত অনুবাদ, নয় থেকে দশ পর্যন্ত হিন্দি, দশ থেকে এগারো পর্যন্ত বিবিধ-বিষয়, তারপর বিশ্রাম।

মগর টাইম-টেবিল বানানো এক কথা, তার উপর আমল করা অন্য কথা। প্রথম দিনেই তার অবহেলা শুরু হয়ে যেত। মাঠের সেই সুখদ হরিয়ালি (সবুজাভ), হাওয়ার হালকা হালকা ঝোঁকা, ফুটবলের সেই উল্লম্ফন, কাবাডির সেই দাঁও-ঘাত, ভলিবলের সেই তেজ এবং ফুর্তি, আমাকে অজ্ঞাত এবং অনিবার্য রূপে টেনে নিয়ে যেত এবং সেখানে যেতেই আমি সব কিছু ভুলে যেতাম। সেই জানলেওয়া (জীবননাশক) টাইম-টেবিল, সেই আঁখফোড় (চোখফোড়ানো) পুস্তক, কারো মনে থাকত না এবং ভাই সাহেবকে নসিহত (উপদেশ) এবং ফজিহতের (অপমান) সুযোগ মিলে যেত। আমি তাদের ছায়া থেকে পালাতাম, তাদের চোখ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করতাম, ঘরে এমনভাবে দবেপা (পা চেপে) আসতাম যে তাদের খবর না হয়। তাদের নজর আমার দিকে উঠল এবং আমার প্রাণ বেরোল। সবসময় মাথার উপর একটি নাঙ্গা তলোয়ার-সা লটকানো মনে হতো। তবুও যেমন মৃত্যু এবং বিপত্তির মধ্যেও মানুষ মোহ এবং মায়ার বন্ধনে জড়িয়ে থাকে, আমি ফটকার (তিরস্কার) এবং ঘুড়কি (ধমক) খেয়েও খেলাধুলার তিরস্কার করতে পারতাম না।

(2)

বার্ষিক পরীক্ষা হল। ভাই সাহেব ফেল হলেন, আমি পাস হলাম এবং দরজায় (ক্লাসে) প্রথম হলাম। আমার এবং তার মধ্যে মাত্র দুই বছরের ব্যবধান রইল গেল। মনে হল, ভাই সাহেবকে আড়ে হাত (সরাসরি) নিয়ে নিই- ‘আপনার সেই ঘোর তপস্যা কোথায় গেল? আমাকে দেখুন, মজা করে খেলেছি এবং দরজায় প্রথমও হয়েছি।’ কিন্তু তিনি এত দুঃখিত এবং উদাস ছিলেন যে আমার তার প্রতি দিলী হমদর্দী (মনের সহানুভূতি) হল এবং তার ঘায়ে নমক ছড়ানোর চিন্তাই লজ্জাস্পদ মনে হল। হ্যাঁ, এখন আমার নিজের উপর কিছু অভিমান হল এবং আত্মসম্মানও বেড়ে গেল। ভাই সাহেবের সেই রোভ (ভয়) আমার উপর রইল না। আজাদি (স্বাধীনতা) নিয়ে খেলাধুলায় শরিক হতে লাগলাম। দিল মজবুত ছিল। যদি তিনি আবার আমার ফজিহত (অপমান) করেন, তবে সাফ বলে দেব- ‘আপনি আপনার রক্ত পুড়িয়ে কোন তীর মারলেন। আমি তো খেলতে-কুড়তে দরজায় প্রথম হয়ে গেলাম।’ জবান (জিভ) দিয়ে এই হেকড়ি (দেমাক) জাহির করার সাহস না হলেও আমার রং-ঢং থেকে সাফ জাহির (প্রকাশ) হতো যে ভাই সাহেবের সেই আতঙ্ক আমার উপর নেই। ভাই সাহেব এটা ভাঁপ (আঁচ) পেয়ে গেলেন- তার সহজ বুদ্ধি খুব তীব্র ছিল এবং একদিন যখন আমি ভোরের সব সময় গুল্লি-ডান্ডার ভেট (বলি) দিয়ে ঠিক ভোজনের সময় ফিরলাম, তখন ভাই সাহেব যেন তলোয়ার খুলে নিলেন এবং আমার উপর টুট (ঝাঁপিয়ে) পড়লেন- দেখছি, এই বছর পাস হয়ে গেছ এবং দরজায় প্রথম হয়েছ, তবে তোমার দিমাগ (মাথা) ঘুরে গেছে, মগর ভাইজান, ঘমন্ড (অহংকার) তো বড়ো বড়োর থাকে না, তোমার কী হস্তি (অস্তিত্ব) আছে? ইতিহাসে রাবণের হাল তো পড়েছই। তার চরিত্র থেকে তুমি কোন উপদেশ নিয়েছ? বা এমনিই পড়ে গেছ? মাহজ (মাত্র) পরীক্ষা পাস করে নেওয়া কোনো চিজ (জিনিস) নয়, আসল চিজ হল

বুদ্ধির বিকাশ। যা কিছু পড়ো, তার অভিপ্রায় বুঝো। রাবণ ভূমণ্ডলের স্বামী ছিল। এমন রাজাদের চক্রবর্তী বলে। আজকাল ইংরেজদের রাজ্যের বিস্তার খুব বেড়ে গেছে, কিন্তু তাদের চক্রবর্তী বলা যায় না। সংসারে অনেক রাষ্ট্র ইংরেজদের আধিপত্য স্বীকার করে না, একেবারে স্বাধীন। রাবণ চক্রবর্তী রাজা ছিল, সংসারের সব মহীপ (রাজা) তাকে কর দিত। বড়ো বড়ো দেবতা তার গোলামি করত। আগুন এবং পানির দেবতাও তার দাস ছিল, মগর তার অন্ত কী হল? ঘমন্ড (অহংকার) তার নাম-নিশান পর্যন্ত মুছে দিল, কেউ তাকে এক চুল্লু (অঞ্জলি) পানি দেওয়ারও রইল না। মানুষ এবং যে কুকর্ম ইচ্ছে করুক, কিন্তু অভিমান না করুক, ইতরায়ে (গর্বিত) না হয়। অভিমান করল এবং দীন-দুনিয়া দুটো থেকেই গেল। শয়তানের হালও পড়েছই। তাকে এই অভিমান হয়েছিল যে ঈশ্বরের তার থেকে বড়ো সত্য ভক্ত কেউ নেইই। অন্তে এই হল যে স্বর্গ থেকে নরকে ঢেলে দেওয়া হল। শাহেরুমও একবার অহংকার করেছিল। ভিক্ষা মাংগা-মাংগা করে মরল। তুমি তো এখন মাত্র এক দরজা পাস করেছ এবং এখনই তোমার সির (মাথা) ঘুরে গেল, তখন তো তুমি আগে পড়েছ। এটা বুঝে নাও যে তুমি তোমার মেহনতে পাস হওনি, অন্ধের হাতে বটের (বটেরা পাখি) লেগে গেছে। মগর বটের মাত্র একবার হাতে লাগতে পারে, বারবার নহে (না) লাগতে পারে। কখনো কখনো গুল্লি-ডান্ডাতেও অন্ধা-চোট (অন্ধের আঘাত) নিশানা পড়ে যায়। এতে কেউ সফল খেলোয়াড় হয় না। সফল খেলোয়াড় সে, যার কোনো নিশানা খালি না যায়।

আমার ফেল হওয়ার উপর মত যেও না। আমার দরজায় আসবে, তবে দাঁতে ঘাম বেরিয়ে আসবে, যখন অ্যালজেব্রা এবং জ্যামিতির লোহার চানা (কঠিন কাজ) চিবাতে হবে এবং ইংল্যান্ডের ইতিহাস পড়তে হবে। বাদশাহদের নাম মনে রাখা সহজ নয়। আট-আট হেনরি গুজরে (অতিবাহিত) গেছে। কোন কাণ্ড কোন হেনরির সময়ে হয়েছিল, কী এটা মনে রাখা সহজ মনে করো? হেনরি সপ্তমের জায়গায় হেনরি অষ্টম লিখলে এবং সব নম্বর গায়েব (অদৃশ্য)। সাফাচট (শূন্য)। সিফার (শূন্য) ও মিলবে না, সিফারও। হো (হয়) কিস খয়ালে (কী ভাবনায়)। দর্জন (ডজন) তো জেমস হয়েছে, দর্জন উইলিয়াম, কোড়ি (কোটি নয়, অনেকগুলো) চার্লস। দিমাগ চক্কর খেতে লাগে। আন্ধি (মাথা ঘোরা) রোগ হয়ে যায়। এই অভাগাদের নামও জুটত না। একটি নামের পিছনে দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম লাগাতে লাগল। আমার কাছে জিজ্ঞাসা করলে, তবে দশ লাখ নাম বলে দিতাম।

আর জ্যামিতি তো বাস, খোদা হি পানাহ (আল্লাহই রক্ষা করুন)। A B C এর জায়গায় A C B লিখে দিলে এবং সব নম্বর কাটা গেল। কেউ এই নির্দয় মুমতাহিনদের (পরীক্ষক) থেকে জিজ্ঞাসা করে না যে আখির (শেষ পর্যন্ত) A B C এবং A C B তে কী ফরক (পার্থক্য) আছে, এবং অযথা কথার জন্য কেন ছাত্রদের রক্ত করো। ডাল-ভাত-রুটি খেয়েছি বা ভাত-ডাল-রুটি খেয়েছি, এতে কী রেখেছে, মগর এই পরীক্ষকদের কী পরওয়া। তারা তো তাই দেখে যা পুস্তকে লেখা আছে। চায় যে ছেলেরা অক্ষর-অক্ষর রটে (গেঁথে) ফেলুক। আর এই রটন্তের নাম শিক্ষা রেখে ছেড়েছে। আর আখির এই বে-সির-পেরের (অর্থহীন) কথার পড়া থেকে ফায়দা?

এই রেখার উপর সেই লম্ব ফেলে দাও, তবে আধার লম্ব থেকে দুগুণ হবে। জিজ্ঞাসা করি, এতে প্রয়োজন? দুগুণ না, চৌগুণ হয়ে যাক, বা আধাই থাকুক, আমার বালা (দুর্ভোগ) থেকে, কিন্তু পরীক্ষায় পাস হতে হবে, তবে এ সব খুরাফাত (অর্থহীন কথা) মনে রাখতে হবে।

বলে দিল- ‘সময়ের পাবন্দি’ (নিয়মানুবর্তিতা) উপর একটি নিবন্ধ লেখো, যা চার পৃষ্ঠার কম না হয়। এখন আপনি কপি সামনে খুললেন, কলম হাতে নিয়ে তার নামে কাঁদলেন। কে জানে না যে সময়ের পাবন্দি খুব ভালো কথা। এতে মানুষের জীবনে সংযম আসে, অন্যদের তার উপর স্নেহ হতে থাকে এবং তার কারবারে উন্নতি হয়, কিন্তু এই জরা-সি (সামান্য) কথায় চার পৃষ্ঠা কীভাবে লেখা যায়? যে কথা একটি বাক্যে বলা যেতে পারে, তাকে চার পৃষ্ঠায় লেখার জরুরত? আমি তো এটাকে হিমাকত (বোকামি) বলি। এটা তো সময়ের কিফায়ত (মিতব্যয়িতা) নয়, বরং তার দুরুপযোগ (অপব্যবহার) যে অযথায় কোনো কথা ঠুসে দেওয়া হয়। আমরা চাই, মানুষকে যা কিছু বলতে হয়, চটপট বলে দিক এবং নিজের রাহ (পথ) নিক। মগর না, আপনাকে চার পৃষ্ঠা রং করতে হবে, ইচ্ছে মতো লিখুন এবং পৃষ্ঠাও পুরো ফুলস্কেপ আকৃতির। এটা ছাত্রদের উপর অত্যাচার নয়, তবে আর কী? অনর্থ তো এটা যে বলা হয়, সংক্ষেপে লেখো। সময়ের পাবন্দি উপর সংক্ষেপে একটি নিবন্ধ লেখো, যা চার পৃষ্ঠার কম না হয়। ঠিক। সংক্ষেপে তো চার পৃষ্ঠা হল, না হলে সম্ভবত শত-দুই-শত পৃষ্ঠা লিখাত। তেজেও দৌড়ান এবং ধীরে-ধীরেও। হ্যায় উল্টি কথা, হ্যায় বা নয়? শিশুও এত-সি কথা বুঝতে পারে, কিন্তু এই অধ্যাপকদের এত তমিজ (বুদ্ধি)ও নেই। তার উপর দাবি আছে যে আমরা অধ্যাপক। আমার দরজায় আসবে লালা, তবে এই সব পাপড় (কৌশল) বেলতে হবে এবং তখন আটা-ডালের ভাব (দাম) জানা যাবে। এই দরজায় প্রথম হয়ে গেছ, তবে জমিনে পা রাখ না। তাই আমার কথা মানো। লাখ (এক লক্ষ বার) ফেল হয়ে গেছি, কিন্তু তোমার থেকে বড়ো, সংসারের আমাকে তোমার থেকে কোথাও বেশি অভিজ্ঞতা আছে। যা কিছু বলি তাকে গিরহ (গিঁট) বাঁধো, না হলে পছতাইবে (অনুশোচনা করবে)।

স্কুলের সময় নিকট ছিল, না হলে ঈশ্বর জানেন এই উপদেশ-মালা কখন সমাপ্ত হয়। ভোজন আজ আমাকে নিঃস্বাদ-সা লাগছিল। যখন পাস হওয়ার পর এই তিরস্কার হচ্ছে, তবে ফেল হয়ে গেলে তো সম্ভবত প্রাণই নিয়ে নেওয়া হবে। ভাই সাহেব তার দরজার পড়াশোনার যে ভয়ঙ্কর চিত্র এঁকেছিলেন, তা আমাকে ভয়ভীত করে দিয়েছিল। স্কুল ছেড়ে বাড়ি না পালালাম, এটাই তাজ্জুব (আশ্চর্য), কিন্তু এত তিরস্কারের পরেও পুস্তকে আমার অরুচি যেন-কি-তেমন বজায় রইল। খেলাধুলার কোনো সুযোগ হাত থেকে না যেতে দিত। পড়তামও, মগর খুব কম। বাস, এতটুকু যে প্রতিদিন টাস্ক (কাজ) পূর্ণ হয় এবং দরজায় জলিল (অপমানিত) না হতে হয়। নিজের উপর যে বিশ্বাস জন্মেছিল, তা আবার লুপ্ত হয়ে গেল এবং আবার চোরের-সা জীবন কাটতে লাগল।

(3)

আবার বার্ষিক পরীক্ষা হল এবং কিছু এমন সংযোগ হল যে আমি আবার পাস হলাম এবং ভাই সাহেব আবার ফেল হলেন। আমি খুব মেহনত করিনি, কিন্তু জানি না কীভাবে দরজায় প্রথম হয়ে গেলাম। আমাকেই আশ্চর্য হল। ভাই সাহেব প্রাণান্তক পরিশ্রম করলেন। কোর্সের একটি একটি শব্দ চেটে ফেলেছিলেন, দশটা রাত পর্যন্ত এদিকে, চারটা ভোর থেকে ওদিকে, ছয় থেকে সাড়ে নয় পর্যন্ত স্কুল যাওয়ার আগে। মুদ্রা (মুখ) কান্তিহীন হয়ে গিয়েছিল, মগর বেচারারা ফেল হয়ে গেল। আমার তার উপর দয়া আসত। ফলাফল শোনানো হল, তখন তিনি কাঁদলেন এবং আমিও কাঁদতে লাগলাম। নিজের পাস হওয়ার খুশি অর্ধেক হয়ে গেল। আমিও ফেল হয়ে গেলে, তবে ভাই সাহেবের এত দুঃখ হতো না, কিন্তু বিধির কথা কে ঠেলে!

আমার এবং ভাই সাহেবের মধ্যে এখন মাত্র এক দরজার ব্যবধান রইল গেল। আমার মনে একটি কুটিল ভাবনা উদয় হল যে কোথাও ভাই সাহেব এক বছর আর ফেল হয়ে যান, তবে আমি তার সমান হয়ে যাই, তখন তিনি কোন আধারে আমার ফজিহত (অপমান) করতে পারবেন, কিন্তু আমি এই চিন্তাকে দিল থেকে বলপূর্বক বের করে ফেললাম। আখির তিনি আমাকে আমার হিতের চিন্তা থেকেই তো ডাঁটেন। আমার এই সময় অপ্রিয় লাগে অবশ্য, মগর এটা সম্ভবত তার উপদেশেরই আসর (প্রভাব) যে আমি দনাদন (লাগাতার) পাস হয়ে যাই এবং এত ভালো নম্বর দিয়ে।

এখন ভাই সাহেব অনেকটা নরম পড়ে গেলেন। কয়েকবার আমাকে ডাঁটার সুযোগ পেয়েও তিনি ধৈর্য নিয়ে কাজ নিলেন। সম্ভবত এখন তিনি নিজেই বুঝতে শুরু করেছিলেন যে আমাকে ডাঁটার অধিকার তার নেই, বা থাকলেও, তবে খুব কম। আমার স্বচ্ছন্দতাও বেড়ে গেল। আমি তার সহিষ্ণুতার অনুচিত লাভ তুলতে লাগলাম। আমার কিছু এমন ধারণা হল যে আমি পাসই হয়ে যাব, পড়ি বা না পড়ি, আমার তকদির বলবান, তাই ভাই সাহেবের ভয়ে যে অল্প-বিস্তর পড়ে নিতাম, সেটাও বন্ধ হল। আমার কনকৌয়া (ঘুড়ি) ওড়ানোর নতুন শৌক জন্ম নিল এবং এখন সব সময় পতঙ্গবাজিরই ভেট (বলি) হতো, তবুও আমি ভাই সাহেবের আদব (সম্মান) করতাম এবং তার নজর বাঁচিয়ে কনকৌয়া ওড়াতাম। মাঞ্জা দেওয়া, কানে বাঁধা, পতঙ্গ টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি ইত্যাদি সমস্যা সব গুপ্ত রূপে সমাধান করা হতো। আমি ভাই সাহেবকে এই সন্দেহ না করতে দিতে চাইতাম যে তার সম্মান এবং লিহাজ (লজ্জা) আমার নজরে কম হয়ে গেছে।

একদিন সন্ধ্যা সময়, হোস্টেল থেকে দূরে আমি একটি কনকৌয়া লুটতে বেতহাশা (বেপরোয়া) দৌড়ে যাচ্ছিলাম। চোখ আকাশের দিকে ছিল এবং মন সেই আকাশগামী পথিকের দিকে, যে মন্দ গতিতে ঝুমতে পতনের দিকে চলে আসছিল, যেন কোনো আত্মা স্বর্গ থেকে বেরিয়ে বিরক্ত মনে নতুন সংস্কার গ্রহণ করতে যাচ্ছে। বালকদের পুরো সেনা লগ্গে (লাঠি) এবং ঝাড়দার বাঁশ নিয়ে এদের স্বাগত করতে দৌড়ে আসছিল। কারো নিজের আগে-পিছের খবর ছিল না। সবাই যেন সেই পতঙ্গের সাথেই আকাশে উড়ছিল, যেখানে সব কিছু সমতল, না মোটরগাড়ি আছে, না ট্রাম, না গাড়ি।

সহসা ভাই সাহেবের সাথে আমার মুঠভেড় (সাক্ষাৎ) হয়ে গেল, যিনি সম্ভবত বাজার থেকে ফিরছিলেন। তিনি সেখানেই হাত ধরে ফেললেন এবং উগ্র ভাবে বললেন- এই বাজারের লৌন্ডোদের (ছেলেদের) সাথে ধেলের (পয়সার) কনকৌয়ার জন্য দৌড়াতে তোমার শর্ম (লজ্জা) আসে না? তোমার এটারও কিছু লিহাজ (লজ্জা) নেই যে এখন নিচি জমাতে (নিচের ক্লাসে) নেই, বরং অষ্টম জমাতে এসে গেছ এবং আমার থেকে মাত্র এক দরজা নিচে। আখির মানুষকে কিছু তো নিজের পজিশনের খয়াল রাখা উচিত।

এক জমানা ছিল যে লোকেরা অষ্টম দরজা পাস করে নায়েব তহশিলদার হয়ে যেত। আমি কত মিডলচি (মাধ্যমিক পাস) কে জানি, যারা আজ প্রথম দরজার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট বা সুপারিনটেনডেন্ট। কত অষ্টম জমাতওয়ালা আমাদের লিডার এবং সংবাদপত্রের সম্পাদক। বড়ো বড়ো বিদ্বান তাদের মাতহতিতে (অধীনে)

কাজ করে এবং তুমি সেই অষ্টম দরজায় এসে বাজারের লৌন্ডোদের সাথে কনকৌয়ার জন্য দৌড়াচ্ছ। আমার তোমার এই কম আক্লি (বুদ্ধি) উপর দুঃখ হয়। তুমি জহীন (প্রতিভাবান) হও, এতে শক (সন্দেহ) নেই, কিন্তু সেই জেহন (বুদ্ধি) কোন কাজের যে আমাদের আত্মগৌরবের হত্যা করে ফেলে। তুমি নিজের দিলে মনে করবে, আমি ভাই সাহেব থেকে মাহজ (মাত্র) এক দরজা নিচে এবং এখন তাদের আমাকে কিছু বলার হক নেই, কিন্তু এটা তোমার গলতি (ভুল)। আমি তোমার থেকে পাঁচ বছর বড়ো এবং চাই আজ তুমি আমারই জমাতে আসো এবং পরীক্ষকদের এইই হাল, তবে নিঃসন্দেহ আগামী বছর তুমি আমার সমকক্ষ হয়ে যাবে এবং সম্ভবত এক বছর পরে আমার থেকে আগেও নিকল যাবে, কিন্তু আমার মধ্যে এবং তোমার মধ্যে যে পাঁচ বছরের ব্যবধান, তাকে তুমি কী, খোদাও নহে (না) মিটাতে পারে। আমি তোমার থেকে পাঁচ বছর বড়ো এবং সবসময় থাকব। আমার দুনিয়ার এবং জীবনের যে তজুরবা (অভিজ্ঞতা) আছে, তুমি তার বরাবরি করতে পার না, চাই তুমি এম.এ. এবং ডি. ফিল. এবং ডি.লিট.ই কেন না হও। বোঝা বই পড়লে আসে না, দুনিয়া দেখলে আসে। আমাদের আম্মা (মা) কোন দরজা পাস করেননি এবং দাদাও সম্ভবত পঞ্চম-ষষ্ঠ জমাতের আগে যাননি, কিন্তু আমরা দুজন চাই সারা দুনিয়ার বিদ্যা পড়ে নিই, আম্মা এবং দাদাকে আমাদের বোঝানোর এবং সুধারানোর (সংশোধন করার) অধিকার সবসময় থাকবে। শুধু এজন্য নয় যে তারা আমাদের জন্মদাতা, বরং এজন্য যে তাদের দুনিয়ার আমাদের থেকে বেশি তজুরবা আছে এবং থাকবে। আমেরিকায় কোন ধরনের রাজ-ব্যবস্থা আছে, এবং অষ্টম হেনরি কত বিয়ে করেছেন এবং আকাশে কত নক্ষত্র আছে, এই কথা চাই তাদের না জানা থাকুক, কিন্তু হাজার এমন কথা আছে, যার জ্ঞান তাদের আমাদের এবং তোমার থেকে বেশি আছে।

দৈব না করে, আজ আমি বেমার (অসুস্থ) হয়ে যাই, তবে তোমার হাত-পা ফুলে যাবে। দাদাকে তার (টেলিগ্রাম) দেওয়ার সিভা তোমার আর কিছু না সূঝবে (মাথায় আসবে), কিন্তু তোমার জায়গায় দাদা হন, তবে কাউকে তার না দেন, না ঘাবড়ান, না বদহওয়াস (বিহ্বল) হন। আগে নিজে