অধ্যায় 10 একটি গল্প এও

মন্নু ভণ্ডারী

সন ১৯৩১-২০২১

মন্নু ভণ্ডারীর জন্ম সন ১৯৩১ সালে গ্রাম ভানপুরা, জেলা মন্দসৌর (মধ্য প্রদেশ) হয়েছিল কিন্তু তার ইন্টার পর্যন্ত শিক্ষা-দীক্ষা হয়েছিল রাজস্থানের আজমের শহরে। পরে তিনি হিন্দিতে এম.এ. করেছিলেন এবং দিল্লির মিরান্ডা হাউস কলেজে অধ্যাপনা কাজ থেকে অবসর গ্রহণ করেছিলেন। সন ২০২১ সালে তাঁর দেহান্ত হয়েছিল।

স্বাধীনোত্তর হিন্দি কাহিনি সাহিত্যের প্রধান হস্তাক্ষর মন্নু ভণ্ডারীর প্রধান রচনাগুলি হল-এক প্লেট সৈলাব, আমি হার গই, ইহি সচ হ্যায়, ত্রিশঙ্কু (কাহিনি-সংগ্রহ) ; আপনার বন্টী, মহাভোজ (উপন্যাস)। এছাড়া তিনি চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ধারাবাহিকের জন্য পটকথাও লিখেছেন। সম্প্রতি একটি গল্প এও নামে আত্মকথ্যের প্রকাশ। তাঁর সাহিত্যিক উপলব্ধির জন্য হিন্দি আকাদেমির শিখর সম্মান সহ তিনি অনেক পুরস্কার পেয়েছেন যার মধ্যে ভারতীয় ভাষা পরিষদ, কলকাতা, রাজস্থান সঙ্গীত নাটক আকাদেমি, উত্তর প্রদেশ হিন্দি সংস্থানের পুরস্কার অন্তর্ভুক্ত।

মন্নু ভণ্ডারীর গল্প হোক বা উপন্যাস তার মধ্যে ভাষা ও শিল্পের সরলতা এবং প্রামাণিক অনুভূতি পাওয়া যায়। তাঁর রচনায় নারী-মন সংযুক্ত অনুভূতির অভিব্যক্তিও দেখা যায়।

একটি গল্প এও এর প্রসঙ্গে সবচেয়ে আগে আমরা এটা জেনে নিই যে মন্নু ভণ্ডারী পরিভাষিক অর্থে কোনো সিলসিলেওয়ার আত্মকথা লেখেননি। তাঁর আত্মকথ্যে তিনি সেই ব্যক্তিদের এবং ঘটনাগুলির বিষয়ে লিখেছেন যা তাঁর লেখকীয় জীবন সংযুক্ত। সংকলিত অংশে মন্নু জীর কিশোর জীবন সংযুক্ত ঘটনাগুলির সাথে তাঁর বাবা এবং তাঁর কলেজের অধ্যাপিকা শীলা অগ্রবালের ব্যক্তিত্ব বিশেষভাবে উত্থিত হয়েছে, যারা এগিয়ে গিয়ে তাঁর লেখকীয় ব্যক্তিত্বের নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। লেখিকা এখানে খুবই সুন্দরভাবে সাধারণ মেয়ের অসাধারণ হওয়ার প্রাথমিক পর্যায়গুলি প্রকাশ করেছেন। সন ‘৪৬-‘৪৭ এর স্বাধীনতার ঝড় মন্নু জীকেও অক্ষত রাখেনি। ছোট শহরের যুবতী হওয়া মেয়ে স্বাধীনতার লড়াইয়ে যে ভাবে অংশগ্রহণ করেছিল তার মধ্যে তার উৎসাহ, ওজ, সংগঠন-ক্ষমতা এবং বিরোধ করার পদ্ধতি দেখার মতো।

একটি গল্প এও

জন্মেছিলাম মধ্য প্রদেশের ভানপুরা গ্রামে, কিন্তু আমার স্মৃতির সিলসিলা শুরু হয় আজমেরের ব্রহ্মপুরী মহল্লার সেই দুই-তলা বাড়ি থেকে, যার উপরের তলায় বাবার সাম্রাজ্য ছিল, যেখানে তিনি নিঃশর্ত অব্যবস্থিত ভাবে ছড়ানো-ছিটানো বই-পত্রিকা এবং সংবাদপত্রের মধ্যে হয়তো কিছু পড়তেন থাকতেন অথবা ‘ডিক্টেশন’ দিতেন থাকতেন। নিচে আমরা সব ভাই-বোনের সাথে থাকতাম আমাদের অশিক্ষিতা ব্যক্তিত্বহীন মা..সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমরা সবার ইচ্ছা এবং বাবার আদেশ পালন করার জন্য সর্বদা তৎপর। আজমেরের আগে বাবা ইন্দোরে ছিলেন যেখানে তাঁর বড় প্রতিষ্ঠা ছিল, সম্মান ছিল, নাম ছিল। কংগ্রেসের সাথে-সাথে তিনি সমাজ-সংশোধনের কাজেও যুক্ত ছিলেন। শিক্ষার তিনি কেবল উপদেশই দিতেন না, বরং সেই দিনগুলিতে আট-আট, দশ-দশ ছাত্রকে নিজের বাড়িতে রেখে পড়িয়েছেন যাদের মধ্যে কয়েকজন পরে উঁচু-উঁচু পদে পৌঁছেছিলেন। এগুলি তাঁর সুখের দিন ছিল এবং সেই দিনগুলিতে তাঁর দরিয়াদিলির কথাও কম ছিল না। একদিকে তিনি অত্যন্ত কোমল এবং সংবেদনশীল ব্যক্তি ছিলেন তো অন্যদিকে অত্যন্ত ক্রোধী এবং অহংবাদী।

কিন্তু এ সব তো আমি কেবল শুনেছি। দেখেছি, তখন তো এই গুণগুলির ভগ্নাবশেষ বহন করা বাবা ছিলেন। একটি খুব বড় আর্থিক ধাক্কার কারণে তিনি ইন্দোর থেকে আজমের চলে এসেছিলেন, যেখানে তিনি নিজের একার বল-বুটি এবং হৌসলে থেকে ইংরেজি-হিন্দি শব্দকোষ (বিষয়ভিত্তিক) এর অসম্পূর্ণ কাজকে এগিয়ে নেওয়া শুরু করেছিলেন যা নিজের ধরনের প্রথম এবং একমাত্র শব্দকোষ ছিল। এটি তাঁকে যশ এবং প্রতিষ্ঠা তো অনেক দিয়েছিল, কিন্তু অর্থ দেয়নি এবং সম্ভবত পড়ন্ত আর্থিক অবস্থাই তাঁর ব্যক্তিত্বের সমস্ত ইতিবাচক দিকগুলিকে নিংড়ানো শুরু করেছিল। সঙ্কুচিত আর্থিক অবস্থার কারণে আরও বেশি বিস্ফারিত তাঁর অহং তাঁকে এই বিষয়টির অনুমতি দিত না যে তিনি কম-বেশি নিজের সন্তানদের তো নিজের আর্থিক বাধ্যবাধকতার অংশীদার বানান। নবাবি অভ্যাস, অসম্পূর্ণ উচ্চাকাঙ্ক্ষা, সর্বদা শীর্ষে থাকার পরে প্রান্তে সরে যাওয়ার যন্ত্রণা ক্রোধ হয়ে সর্বদা মাকে কাঁপাত-থরথর করত। নিজেদের হাতে বিশ্বাসঘাতকতার কী রকম গভীর আঘাত থাকবে সেগুলি যারা চোখ বন্ধ করে সবার বিশ্বাস

করতেন সেই বাবাকে পরের দিনগুলিতে এত সন্দেহপ্রবণ করে দিয়েছিল যে যখন-তখন আমরা লোকেরাও তার চাপে পড়তাম।

কিন্তু এই পিতৃ-গাথা আমি এই কারণে গাই না যে আমাকে তাঁর গৌরব-গান করতে হবে, বরং আমি তো এটা দেখতে চাই যে তাঁর ব্যক্তিত্বের কোন-কোন গুণ এবং খামতি আমার ব্যক্তিত্বের তন্তু-বন্ধনে গাঁথা আছে অথবা যে অজানা-অনিচ্ছাকৃত করা তাঁর আচরণ আমার ভিতরে কোন গ্রন্থিগুলিকে জন্ম দিয়েছে। আমি কালো। ছোটবেলায় রোগা এবং মরিয়লও ছিলাম। গোরা রং বাবার দুর্বলতা ছিল তাই ছোটবেলায় আমার থেকে দুই বছর বড়, খুব গোরা, স্বাস্থ্যবতী এবং হাসিখুশি বোন সুশীলার সাথে প্রতিটি বিষয়ে তুলনা এবং তারপর তার প্রশংসাই, কী আমার ভিতরে এমন গভীর হীন-ভাবের গ্রন্থি সৃষ্টি করেনি যে নাম, সম্মান এবং প্রতিষ্ঠা পাওয়ার সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত আমি তা থেকে মুক্তি পাইনি? আজও পরিচয় করিয়ে দিতে গেলে যখন কেউ কিছু বিশেষত্ব লাগিয়ে আমার লেখকীয় উপলব্ধির উল্লেখ করতে শুরু করে তখন আমি সংকোচে সঙ্কুচিত হই না শুধু বরং গড়তে-গড়তে হতে আসি। সম্ভবত অবচেতনের কোনো স্তরের নিচে চাপা এই হীন-ভাবনার চলনে আমি আমার কোনো উপলব্ধিতে বিশ্বাস করতে পারি না…সব কিছুই আমাকে কাকতালীয় মনে হয়। বাবার যে সন্দেহপ্রবণ স্বভাবের উপর আমি কখনও ভনভন করতাম, আজ হঠাৎ আমার খণ্ডিত বিশ্বাসের ব্যথার নিচে আমাকে তাঁর সন্দেহপ্রবণ স্বভাবের আভাসই দেখায়…অনেক ‘নিজেদের’ হাতে বিশ্বাসঘাতকতার গভীর ব্যথা থেকে উৎপন্ন সন্দেহ। হুঁশ সামলানোর পর থেকে যেসব বাবার সাথে কোনো-না-কোনো বিষয়ে সর্বদা আমার সংঘর্ষ চলত, তিনি তো জানি না কত রূপে আমার মধ্যে আছেন…কোথাও কুণ্ডলীর রূপে, কোথাও প্রতিক্রিয়ার রূপে তো কোথাও প্রতিচ্ছায়ার রূপে। কেবল বাহ্যিক ভিন্নতার ভিত্তিতে নিজের ঐতিহ্য এবং প্রজন্মকে অস্বীকারকারীদের কী সত্যিই এই বিষয়ের একেবারে অনুভূতি হয় না যে তাদের নিকট অতীত কতখানি তাদের ভিতরে শিকড় গেড়ে বসে থাকে! সময়ের প্রবাহ ভালই হোক আমাদের অন্য দিকে বয়ে নিয়ে যায়…পরিস্থিতির চাপ ভালই হোক আমাদের রূপ বদলে দেয়, আমাদের সম্পূর্ণভাবে তার থেকে মুক্ত তো করতে পারে না!

বাবার ঠিক বিপরীত ছিলেন আমাদের অশিক্ষিতা মা। পৃথিবী থেকে কিছু বেশি ধৈর্য এবং সহনশক্তি ছিল সম্ভবত তাঁর মধ্যে। বাবার প্রতিটি জুলুমকে নিজের প্রাপ্য এবং সন্তানদের প্রতিটি যথাযথ-অযথাযথ দাবি এবং জিদকে নিজের দায়িত্ব মনে করে খুব সহজভাবে স্বীকার করতেন তিনি। তিনি জীবনভর নিজের জন্য কিছু চাননি, ইচ্ছা করেননি…কেবল দিয়েছেনই দিয়েছেন। আমরা ভাই-বোনের সমস্ত লগ্ন (সম্ভবত সহানুভূতি থেকে উৎপন্ন) মায়ের সাথে ছিল কিন্তু নিঃশর্ত অসহায় বাধ্যবাধকতায় জড়ানো তাঁর এই ত্যাগ কখনও আমার আদর্শ হতে পারেনি…না তাঁর ত্যাগ, না তাঁর সহিষ্ণুতা। যাই হোক, যা-ই হোক, এখন এই পৈতৃক-পুরাণ এখানেই শেষ করে নিজের কাছে ফিরে আসি।

পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট আমি। সবচেয়ে বড় বোনের বিয়ের সময় আমি সম্ভবত সাত বছরের ছিলাম এবং তার একটি অস্পষ্ট স্মৃতি আমার মনে আছে, কিন্তু নিজের থেকে দুই বছর বড় বোন সুশীলা এবং আমি বাড়ির বড় আঙিনায় ছোটবেলার সমস্ত খেলা খেলেছি-সাতোলিয়া, লঙড়ি-টাং, পাকড়ম-পাকড়াই, কালি-টিলো…তো ঘরে পুতুলের বিয়েও সাজিয়েছি, পাশ-পড়োসের সখীদের সাথে। তবু খেলতে আমরা ভাইদের সাথে গিল্লি-ডান্ডাও খেলেছি এবং ঘুড়ি ওড়ানো, কাঁচ পিষে মাঞ্জা সূতনের কাজও করেছি, কিন্তু তাদের গতিবিধির পরিধি বাড়ির বাইরেই বেশি থাকত এবং আমাদের সীমা ছিল বাড়ি। হ্যাঁ, এতটুকু অবশ্যই ছিল যে সেই যুগে বাড়ির দেয়াল বাড়ি পর্যন্তই শেষ হত না বরং পুরো মহল্লা পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকত তাই মহল্লার কোনো বাড়িতে যেতে কোনো বাধা ছিল না, বরং কিছু বাড়ি পরিবারের অংশই ছিল। আজ তো আমাকে খুব জোরের সাথে এটা অনুভব হয় যে নিজের জীবন নিজে কাটানোর এই আধুনিক চাপ মহানগরের ফ্ল্যাটে থাকা লোকদের আমাদের এই ঐতিহ্যবাহী ‘পাড়া-সংস্কৃতি’ থেকে বিচ্ছিন্ন করে আমাদের কতটা সঙ্কুচিত, অসহায় এবং অনিরাপদ করে দিয়েছে। আমার কম-বেশি এক ডজন প্রাথমিক গল্পের চরিত্র এই মহল্লার যেখানে আমি আমার কৈশোর কাটিয়ে আমার যৌবনের শুরু করেছিলাম। এক-দুইটি বাদ দিয়ে তাদের মধ্যে কোনো চরিত্র আমার পরিবারের নয়। বাস এদের দেখতে-শুনতে, এদের মধ্যেই আমি বড় হয়েছিলাম কিন্তু এদের ছাপ আমার মনে কতটা গভীর ছিল, এই বিষয়ের অনুভূতি তো আমাকে গল্প লেখার সময় হয়েছিল। এত বছরের ব্যবধানও তাদের ভাব-ভঙ্গি, ভাষা, কাউকেই অস্পষ্ট করেনি এবং কোনো বিশেষ প্রচেষ্টা ছাড়াই খুব সহজভাবে তারা নেমে গিয়েছিল। সেই সময়ের দা সাহেব নিজের ব্যক্তিত্বের অভিব্যক্তির জন্য অনুকূল পরিস্থিতি পেয়েই ‘মহাভোজে’ এত বছর পরে কীভাবে হঠাৎ জীবিত হয়ে উঠল, এটা আমার নিজের জন্যও আশ্চর্যের বিষয় ছিল…একটি সুখদ আশ্চর্যের।

সেই সময় পর্যন্ত আমাদের পরিবারে মেয়ের বিয়ের জন্য বাধ্যতামূলক যোগ্যতা ছিল-বয়সে ষোল বছর এবং শিক্ষায় ম্যাট্রিক। সন ‘৪৪ সালে সুশীলা এই যোগ্যতা অর্জন করেছিল এবং বিয়ে করে কলকাতা চলে গিয়েছিল। দুজন বড় ভাইও এগিয়ে পড়াশোনার জন্য বাইরে চলে গিয়েছিল। এদের লোকের ছত্র-ছায়া সরে যাওয়ায় প্রথমবার আমার নতুন করে নিজের অস্তিত্বের অনুভূতি হয়েছিল। বাবার দৃষ্টিও প্রথমবার আমার উপর কেন্দ্রীভূত হয়েছিল। মেয়েদের যে বয়সে স্কুলি শিক্ষার সাথে-সাথে সুঘড় গৃহিণী এবং কুশল রন্ধনশাস্ত্রী বানানোর নিয়ম জোগাড় করা হত, বাবার জোর থাকত যে আমি রান্নাঘর থেকে দূরেই থাকি। রান্নাঘরকে তিনি ভাটিয়ারখানা বলতেন এবং তাঁর হিসাবে সেখানে থাকা নিজের ক্ষমতা এবং প্রতিভাকে ভাটিতে ফেলে দেওয়া ছিল। বাড়িতে প্রায়ই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের জমায়েত হত এবং জমে বিতর্ক হত।

বিতর্ক করা বাবার প্রিয় শখ ছিল। চা-পানি বা নাস্তা দিতে গেলে বাবা আমাকেও সেখানেই বসতে বলতেন। তিনি চাইতেন যে আমিও সেখানেই বসি, শুনি এবং জানি যে দেশে চারদিকে কী কিছু হচ্ছে। দেশে হোক তো কত কিছুই না হচ্ছিল। সন ‘৪২ এর আন্দোলনের পর থেকে তো পুরো দেশ যেন ফুটছিল, কিন্তু বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নীতি, তাদের পরস্পর বিরোধ বা মতভেদের তো আমাকে দূর-দূর পর্যন্ত কোনো বোঝা ছিল না। হ্যাঁ, বিপ্লবীদের এবং দেশপ্রেমিক শহীদদের রোমান্টিক আকর্ষণ, তাদের কুরবানিতে মন আক্রান্ত থাকত।

তো দশম শ্রেণি পর্যন্ত অবস্থা এই ছিল যে কোনো বিশেষ বোঝা ছাড়া বাড়িতে হওয়া বিতর্ক শুনতাম এবং নির্বাচন না করে, লেখকের গুরুত্ব থেকে পরিচিত না হয়ে বই পড়তাম। কিন্তু সন ‘৪৫ সালে যেমনি দশম পাস করে আমি ‘ফার্স্ট ইয়ারে’ এলাম, হিন্দির অধ্যাপিকা শীলা অগ্রবালের সাথে পরিচয় হয়েছিল। সাবিত্রী গার্লস হাই স্কুল…যেখানে আমি ককহরা শিখেছি, এক বছর আগেই কলেজ তৈরি হয়েছিল এবং তিনি এই বছরই নিযুক্ত হয়েছিলেন, তিনি নিয়মিত সাহিত্যের জগতে প্রবেশ করিয়েছিলেন। কেবল পড়াকে, নির্বাচন করে পড়ায় বদলালেন…নিজে বেছে-বেছে বই দিলেন…পড়া বইয়ের উপর বিতর্ক করলেন তো দুই বছর কাটতে-না-কাটতে সাহিত্যের জগৎ শরৎ-প্রেমচন্দ থেকে বেড়ে জৈনেন্দ্র, অজ্ঞেয়, যশপাল, ভগবতীচরণ বর্মা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ল এবং তারপর তো ছড়িয়েই চলল। সেই সময় জৈনেন্দ্র জীর ছোট-ছোট সরল-সহজ বাক্যের শৈলী খুব আকৃষ্ট করেছিল। ‘সুনীতা’ (উপন্যাস) খুব ভাল লেগেছিল, অজ্ঞেয় জীর উপন্যাস ‘শেখর : একটি জীবনী’ পড়েছিলাম অবশ্যই কিন্তু সেই সময় সেটা আমার বোঝার সীমিত পরিধির মধ্যে ধরে নিতে পারেনি। কিছু বছর পরে ‘নদীর দ্বীপ’ পড়লাম তো সেটা মনকে এতটা বেঁধে ফেলল যে সেই ঝোঁকে শেখরকে আবার পড়ে গেলাম…এই বার কিছু বোঝার সাথে। এটি সম্ভবত মূল্যের মন্থনের যুগ ছিল…পাপ-পুণ্য, নৈতিক-অনৈতিক, সঠিক-ভুলের তৈরি ধারণার আগে প্রশ্নচিহ্নই লাগছিল না, তাদের ধ্বংসও করা হচ্ছিল। এই প্রসঙ্গেই জৈনেন্দ্রর ‘ত্যাগপত্র’, ভগবতী বাবুর ‘চিত্রলেখা’ পড়লাম এবং শীলা অগ্রবালের সাথে লম্বা-লম্বা বিতর্ক করতে করতে সেই বয়সে যতটা বোঝা সম্ভব ছিল, বোঝালাম।

শীলা অগ্রবাল সাহিত্যের পরিধি বাড়ায়নি শুধু বরং বাড়ির চারদেয়ালের মধ্যে বসে দেশের অবস্থা জানা-বোঝার যে সিলসিলা বাবা শুরু করেছিলেন, তিনি সেখান থেকে টেনে তাকেও অবস্থার সক্রিয় অংশগ্রহণে বদলে দিয়েছিলেন। সন ‘৪৬-৪৭ এর দিন…সেই অবস্থা, তাতে তো বাড়িতে বসে থাকা সম্ভব ছিল নাকি? প্রভাত-ফেরি, ধর্মঘট, মিছিল, বক্তৃতা প্রতিটি শহরের চরিত্র ছিল এবং পুরো দমখম এবং জোশ-খরোশের সাথে এ সবের সাথে যুক্ত হওয়া প্রতিটি যুবকের উন্মাদনা। আমিও যুবতী ছিলাম এবং শীলা অগ্রবালের জোশিলা কথায় শিরায় বহতে থাকা রক্তকে লাভায় বদলে দিয়েছিল। অবস্থা এই হয়েছিল

যে একটি ঘূর্ণিঝড় শহরে মাতিয়েছিল এবং একটি বাড়িতে। বাবার স্বাধীনতার সীমা এখান পর্যন্ত ছিল যে তাঁর উপস্থিতিতে বাড়িতে আসা লোকের মধ্যে উঠি-বসি, জানি-বুঝি। হাত তুলে-তুলে স্লোগান দিই, ধর্মঘট করাই, ছেলেদের সাথে শহরের রাস্তা মাপি মেয়েকে নিজের সমস্ত আধুনিকতার সত্ত্বেও সহ্য করা তাঁর জন্য কঠিন হচ্ছিল তো কারো দেওয়া স্বাধীনতার পরিধিতে চলা আমার জন্য। যখন শিরায় রক্তের জায়গায় লাভা বয় তখন সমস্ত নিষেধ, সমস্ত বর্জন এবং সমস্ত ভয় কীভাবে ধ্বংস হয়ে যায়, এটা তখনই জানা এবং নিজের ক্রোধে সবাইকে থরথর করে দেওয়া বাবার সাথে সংঘর্ষ নেওয়ার যে সিলসিলা তখন শুরু হয়েছিল, রাজেন্দ্রর সাথে বিয়ে হওয়া, তখন পর্যন্ত সেটা চলতই।

যশ-কামনা বরং বলি যশ-লিপ্সা, বাবার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা ছিল এবং তাঁর জীবনের কেন্দ্র ছিল এই নীতি যে ব্যক্তিকে কিছু বিশেষ হয়ে বাঁচতে হবে…কিছু এমন কাজ করতে হবে যে সমাজে তার নাম হোক, সম্মান হোক, প্রতিষ্ঠা হোক, প্রাধান্য হোক। এর চলনেই আমি দুই-একবার তাঁর ক্রোধ থেকে বেঁচে গিয়েছিলাম। একবার কলেজ থেকে প্রিন্সিপালের চিঠি এল যে বাবা এসে দেখা করুন এবং বলুন যে আমার গতিবিধির কারণে আমার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা কেন নেওয়া হবে না? চিঠি পড়তেই বাবা আগুন-বাবুল। “এই মেয়ে আমাকে কোথাও মুখ দেখানোর যোগ্য রাখবে না…জানি না কী-কী শুনতে হবে সেখানে গিয়ে! চার সন্তান আগেও পড়েছে, কেউ এই দিন দেখায়নি।” রাগে ভনভন করতেই তিনি গিয়েছিলেন। ফিরে কী কাহিনি বর্ষিত হবে, এর অনুমান ছিল, তাই আমি পাশের এক বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে বসে পড়লাম। মাকে বলে দিলাম যে ফিরে অনেক কিছু গুবার বেরিয়ে গেলে, তখন ডাকবেন। কিন্তু যখন মা এসে বললেন যে তিনি তো খুশিই আছেন, চলো চল, তখন বিশ্বাস হল না। গেলাম তো ঠিক, কিন্তু ভয়ে-ভয়ে। “সব কলেজের মেয়েদের উপর এত রব আছে তোর…সব কলেজ তোমরা তিন মেয়ের ইশারায় চলছে? প্রিন্সিপাল খুবই বিরক্ত ছিলেন এবং বারবার অনুরোধ করছিলেন যে আমি তোমাকে বাড়ি বসিয়ে রাখি, কারণ তারা লোক কোনোভাবে ভয় দেখিয়ে-ধমকিয়ে, ডাঁট-ডপট করে মেয়েদের ক্লাসে পাঠায় এবং যদি তোমরা লোক এক ইশারা করে দাও যে ক্লাস ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে এসো তো সব মেয়েরা বেরিয়ে ময়দানে জমা হয়ে স্লোগান দিতে শুরু করে। তোমরা লোকের মারা কলেজ চালানো কঠিন হয়ে গেছে তাদের লোকের জন্য।” কোথায় তো যাওয়ার সময় বাবা মুখ দেখানো থেকে ভয় পাচ্ছিলেন এবং কোথায় বড় গর্বে বলে এসেছিলেন যে এটা তো পুরো দেশের ডাক…এতে কেউ কীভাবে বাধা দিতে পারে? অত্যন্ত আবেগময় স্বরে বাবা এ সব শোনাতে থাকলেন এবং আমি হতবাক। আমি না আমার চোখে বিশ্বাস করতে পারছিলাম, না আমার কানে। কিন্তু এটা বাস্তব ছিল।

একটি ঘটনা আর। আজাদ হিন্দ ফৌজের মামলার সিলসিলা ছিল। সব কলেজ, স্কুল, দোকানের জন্য ধর্মঘটের আহ্বান ছিল। যে-যে করছিল না, ছাত্রদের একটি খুব

বড় দল সেখানে গিয়ে-গিয়ে ধর্মঘট করাচ্ছিল। সন্ধ্যায় আজমেরের পুরো ছাত্র-বর্গ চৌপড় (প্রধান বাজারের চৌরাস্তা) জমা হল এবং তারপর হল বক্তৃতাবাজি। এই সময় বাবার একটি নিঃশর্ত রক্ষণশীল বন্ধু বাড়ি এসে ভালোভাবে বাবার লু নামাল, “আরে সেই মন্নুর তো মরার দশা হয়েছে কিন্তু ভণ্ডারী জী আপনার কী হয়েছে? ঠিক আছে, আপনি মেয়েদের স্বাধীনতা দিয়েছেন, কিন্তু দেখেন আপনি, জানেন কীভাবে-কীভাবে উল্টো-সোজা ছেলেদের সাথে ধর্মঘট করায়, হুড়দাং মাতায় ঘুরছে সে। আমাদের-আপনার বাড়ির মেয়েদের শোভা দেয় এ সব? কোনো মান-মর্যাদা, ইজ্জত-আবরুর খেয়ালও আছে আপনার কি না?”



তারা তো আগুন লাগিয়ে চলে গেল এবং বাবা সারাদিন ভভকতে থাকলেন, “বাস, এখন এটাই রয়ে গেছে যে লোক বাড়ি এসে থু-থু করে চলে যাবে। বন্ধ কর এখন এই মন্নুর বাড়ি থেকে বেরোনো।”

এই সব থেকে অজানা আমি রাত হতে বাড়ি ফিরলাম তখন বাবার একটি অত্যন্ত অন্তরঙ্গ এবং অবিচ্ছেদ্য বন্ধু নয় শুধু, আজমেরের সবচেয়ে প্রতিষ্ঠিত এবং সম্মানিত ডা. অম্বালাল জী বসেছিলেন। আমাকে দেখতেই তিনি খুব উষ্ণ অভ্যর্থনা করলেন, এসো, এসো মন্নু। আমি তো চৌপড়ে তোমার বক্তৃতা শুনেই সোজা ভণ্ডারী জীকে অভিনন্দন দিতে চলে এসেছি। ‘আই অ্যাম রিয়েলি প্রাউড অফ ইউ’…কী তুমি বাড়িতে ঢুকে থাকো ভণ্ডারী জী…বাড়ি থেকে বেরোও করো। ‘ইউ হ্যাভ মিসড



সমথিং’, এবং তারা ধোঁয়াধার প্রশংসা করতে লাগল-তারা বলতেই যাচ্ছিলেন এবং বাবার মুখের সন্তোষ ধীরে-ধীরে গর্বে বদলাতে যাচ্ছিল। ভিতরে যাওয়ার পর মা দুপুরের রাগের কথা বললেন তখন আমি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম।

আজ পিছনে ফিরে দেখি তো এতটুকু তো বোঝায়ই যে কী তো সেই সময় আমার বয়স ছিল এবং কী আমার বক্তৃতা থাকবে! এটা তো ডাক্তার সাহেবের স্নেহ ছিল যা তাঁর মুখ থেকে প্রশংসা হয়ে বয়ে যাচ্ছিল অথবা এটাও হতে পারে যে আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগে আজমেরের মতো শহরে চারদিক থেকে উথলে পড়া ভিড়ের মধ্যে একটি মেয়ের কোনো সংকোচ এবং লজ্জা ছাড়াই এইভাবে ধোঁয়াধার বলতে যাওয়াই এর মূলে ছিল। কিন্তু বাবা! কত রকমের অন্তর্দ্বন্দ্বের মধ্যে বাঁচতেন তিনি! একদিকে ‘বিশেষ’ হওয়া এবং বানানোর প্রবল লালসা তো অন্যদিকে নিজের সামাজিক ছবির প্রতি ততটাই সজাগতা। কিন্তু এটা কি সম্ভব? বাবাকে কি এই বিষয়ের একেবারেই অনুভূতি ছিল না যে এই দুটির তো পথই সংঘর্ষের?

সন ‘৪৭ এর মে মাসে শীলা অগ্রবালকে কলেজওয়ালারা নোটিশ ধরিয়ে দিল-মেয়েদের উত্তেজিত করা এবং কলেজের শৃঙ্খলা নষ্ট করার অভিযোগে। এই বিষয় নিয়ে হুড়দাং না মাতে, এই কারণে জুলাই মাসে থার্ড ইয়ারের ক্লাস বন্ধ করে আমরা দুই-তিন ছাত্রীর প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দেওয়া হল।

হুড়দাং তো বাইরে থেকে এত মাতালাম যে কলেজওয়ালাদের আগস্ট মাসে শেষ পর্যন্ত থার্ড ইয়ার খুলতে হল। জয়ের খুশি, কিন্তু সামনে দাঁড়ানো অনেক-অনেক বড় চির প্রতীক্ষিত খুশির সামনে এই খুশি মিলিয়ে গেল।

শতাব্দীর সবচেয়ে বড় উপলব্ধি… ১৫ আগস্ট ১৯৪৭

প্রশ্ন-অভ্যাস

1. লেখিকার ব্যক্তিত্বের উপর কোন-কোন ব্যক্তির কী রূপে প্রভাব পড়েছিল?

2. এই আত্মকথ্যে লেখিকার বাবা রান্নাঘরকে ‘ভাটিয়ারখানা’ বলে কেন সম্বোধন করেছেন?

3. সেই কোন ঘটনা ছিল যার বিষয়ে শুনলে লেখিকার না নিজের চোখে বিশ্বাস হল এবং

4. লেখিকার নিজের বাবার সাথে মতাদর্শগত সংঘর্ষকে নিজের শব্দে লিখুন।

5. এই আত্মকথ্যের ভিত্তিতে স্বাধীনতা আন্দোলনের দৃশ্যপটের চিত্রণ করে তার মধ্যে মন্নু জীর ভূমিকাকে রেখাঙ্কিত করুন।

রচনা এবং অভিব্যক্তি

6. লেখিকা ছোটবেলায় নিজের ভাইদের সাথে গিল্লি ডান্ডা এবং ঘুড়ি ওড়ানোর মতো খেলাও খেলেছেন কিন্তু মেয়ে হওয়ার কারণে তাঁর পরিধি বাড়ির চারদেয়ালি পর্যন্ত সীমিত ছিল। আজও কি মেয়েদের জন্য অবস্থা এমনই আছে নাকি বদলে গেছে, নিজের পরিবেশের ভিত্তিতে লিখুন।

7. মানুষের জীবনে আশেপাশের খুবই গুরুত্ব থাকে। কিন্তু মহানগরে থাকা লোকেরা প্রায়ই ‘পাড়া সংস্কৃতি’ থেকে বঞ্চিত থাকে। এই বিষয়ে নিজের মত লিখুন।

8. লেখিকা দ্বারা পড়া উপন্যাসগুলির তালিকা তৈরি করুন এবং সেই উপন্যাসগুলিকে নিজের গ্রন্থাগারে খুঁজুন।

9. আপনিও নিজের দৈনিক অভিজ্ঞতাগুলি ডায়েরিতে লিখুন।

ভাষা-অধ্যায়ন

10. এই আত্মকথ্যে প্রবাদের ব্যবহার করে লেখিকা রচনাকে আকর্ষণীয় করেছেন। রেখাঙ্কিত প্রবাদগুলিকে মনে রেখে কিছু আরও বাক্য তৈরি করুন-

(ক) এই সময় বাবার একটি নিঃশর্ত রক্ষণশীল বন্ধু বাড়ি এসে ভালোভাবে বাবার $\underline{\text{लू उतारी}}$ ।

(খ) তারা তো $\underline{\text {आग लगाकर}}$ চলে গেল এবং বাবা সারাদিন ভভকতে থাকলেন।

(গ) বাস এখন এটাই রয়ে গেছে যে লোক বাড়ি এসে $\underline {\text{ थू-थू करके}}$ চলে যাবে।

(ঘ) চিঠি পড়তেই বাবা $\underline{\text{आग-बबूला}}$ আগুন-বাবুল।

পাঠোত্তর সক্রিয়তা

  • এই আত্মকথ্য থেকে আমরা এই তথ্য পাই যে কীভাবে লেখিকার পরিচয় সাহিত্যের ভালো বইয়ের সাথে হয়েছিল। আপনি এই তথ্যের সুবিধা নিয়ে ভালো সাহিত্যিক বই পড়ার সিলসিলা শুরু করতে পারেন। কে জানে যে আপনার মধ্য থেকেই কেউ ভালো পাঠক হওয়ার সাথে-সাথে ভালো রচয়িতাও হয়ে যাবে।

  • লেখিকার ছোটবেলার খেলায় লঙড়ি টাং, পাকড়ম-পাকড়াই এবং কালি-টিলো ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত ছিল। আপনিও কি এই খেলা খেলেন। আপনার পরিবেশে এই খেলাগুলির জন্য কোন-কোন শব্দ প্রচলিত আছে। এগুলি ছাড়া আপনি যে খেলা খেলেন তার উপর আলোচনা করুন।

  • স্বাধীনতা আন্দোলনে মহিলাদেরও সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। তাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করুন এবং তাদের মধ্যে থেকে কোনো একজনের উপর প্রকল্প তৈরি করুন।

শব্দ - সম্পদ

অহংবাদী - অহংকারী
ভগ্নাবশেষ - ধ্বংসাবশেষ (ভাঙা-চুরা অংশ)
বিস্ফারিত - আরও বেশি ছড়ানো (বাড়ানো)
আক্রান্ত - কষ্টগ্রস্ত
নিষিদ্ধ - যার উপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে
প্রাধান্য - প্রভাব
রাজেন্দ্র - এখানে হিন্দির প্রধান কথাকার এবং হংস পত্রিকার সম্পাদক রাজেন্দ্র যাদব
এর বিষয়ে বলা হয়েছে
মহাভোজ - মন্নু ভণ্ডারীর আলোচিত উপন্যাস। দা সাহেব তার প্রধান চরিত্র

নমুনার হিসেবে এখানে ৯ বছরের শিবাঙ্কের ডায়েরির একটি পাতা দেওয়া হচ্ছে-

৩০ মার্চ, ২০০১ শুক্রবার

আজ সকালে বাবা তাড়াতাড়ি আমাকে উঠালেন এবং বললেন, “দেখো-দেখো, বৃষ্টি হচ্ছে, শিলাবৃষ্টি পড়ছে। খুব ঠান্ডা পড়ছে।” তারপর আমি তাড়াতাড়ি উঠলাম এবং বাবাকে বললাম, “দিদিকেও উঠাও।” তারপর আমরা দেখলাম যে আমাদের বাড়ির সামনের মাঠে সবুজ-সবুজ ঘাসের উপর সাদা-সাদা শিলাবৃষ্টি পড়ছিল। এমন মনে হচ্ছিল কেউ চামেলির ফুল ছড়িয়ে রেখেছে। খুব ভাল লাগছিল। শিলাবৃষ্টি পড়ছিল। বৃষ্টি হচ্ছিল, পাখি পালাচ্ছিল, কাক বিরক্ত ছিল, গাছ কাঁপছিল, বিদ্যুৎ চমকাচ্ছিল, মেঘ ভয় দেখাচ্ছিল। একটি পাখি আমাদের জানালায় ভয়ে-ভয়ে বসেছিল। অনেকক্ষণ বসে রইল। তারপর উড়ে গেল। এখন পর্যন্ত কোনো শিশু খেলতে বেরোয়নি। এই কারণে আমি আজ তাড়াতাড়ি ডায়েরি লিখছি। সকালের দশটা বাজে। আমি আমার সিরিয়াল দেখতে যাচ্ছি। আজ আমার নতুন ইঙ্ক পেন এবং পেনসিল বক্স এল। আজ দুপুরে রোদ উঠল, তারপর আমরা খেলতে বেরোলাম। আজকাল আমরা লোক মাটির গোলা বানিয়ে শুকিয়ে দিই তারপর আমরা তাদের উপর পেইন্টিং করি তারপর আবার তাদের দিয়ে খেলি।

জানুন লঙড়ির কুস্তি কীভাবে খেলা হয়-

একটি স্থানে মাঝের লাইনের সমান দূরত্বে দুই লাইন টানা হয়। দুই খেলোয়াড় মাঝের লাইনে এসে লঙড়ি বেঁধে নিজের-নিজের প্রতিপক্ষকে নিজের-নিজের লাইনের পার টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। যার লঙড়ি ভেঙে যায় অথবা যে টেনে যায় তার হার হয়। এই খেলা দলে-দলেও খেলা হয়। দেওয়া সময়ের মধ্যে যে দলের বেশি শিশু লঙড়ি ভেঙে দেয় অথবা টেনে যায় সেই দলের হার হয়।