সংবিধান প্রণয়ন
১. কোম্পানি শাসন - রেগুলেটিং অ্যাক্ট ১৭৭৩
- কার্যকর হয়: ১৭৭৩
- প্রধান বিধানাবলি:
- বাংলার গভর্নরকে বাংলার গভর্নর-জেনারেল করেছিল।
- দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা (দিওয়ানি ও নিজামত) চালু করেছিল।
- তাৎপর্য:
- ভারতে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণের সূচনা চিহ্নিত করেছিল।
- কেন্দ্রীভূত প্রশাসনের প্রথম পদক্ষেপ ছিল।
- গুরুত্বপূর্ণ পদ: রেগুলেটিং অ্যাক্ট - ভারত সম্পর্কে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের প্রথম বড় আইনগত অ্যাক্ট।
২. পিটস অ্যাক্ট ১৭৯৩
- কার্যকর হয়: ১৭৯৩
- প্রধান বিধানাবলি:
- লন্ডনে বোর্ড অব কন্ট্রোল প্রতিষ্ঠা করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির তত্ত্বাবধান করেছিল। নির্বাহী ও আইনসভার ক্ষমতা পৃথক করেছিল।
- গভর্নর-জেনারেলকে পরামর্শ দেওয়ার জন্য চার সদস্যের কাউন্সিল চালু করেছিল।
- তাৎপর্য:
- ব্রিটিশ প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করেছিল।
- গভর্নর-জেনারেলের কূটনৈতিক ও সামরিক ক্ষমতার ভিত্তি স্থাপন করেছিল।
- গুরুত্বপূর্ণ পদ: চার সদস্যের কাউন্সিল - রাষ্ট্রীয় বিষয়ে গভর্নর-জেনারেলকে পরামর্শ দিত।
৩. চার্টার অ্যাক্ট ১৮১৩
- কার্যকর: ১৮১৩
- মূল বিধান:
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চার্টার ২০ বছরের জন্য নবায়ন করা হয়।
- ভারতে ইংরেজি শিক্ষা প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- গভর্নর-জেনারেলের সীমিত ক্ষমতা প্রবর্তন করা হয়।
- নবাবদের নিজামত (সামরিক) ক্ষমতা বাতিল করা হয়।
- গুরুত্ব:
- ভারতীয় অঞ্চলের ওপর ব্রিটিশের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ শুরুর সূচনা।
- ভারতে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন।
- গুরুত্বপূর্ণ পদ: ইংরেজি শিক্ষা - ভারতে শিক্ষার জন্য প্রথম বড় নীতি।
৪. চার্টার আইন ১৮৩৩
- কার্যকর: ১৮৩৩
- মূল বিধান:
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নিজামত এবং দিওয়ানি ক্ষমতা বাতিল করা হয়।
- চার সদস্যের কাউন্সিলসহ ভারতের গভর্নর-জেনারেল প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- ভারতের গভর্নর-জেনারেল-কে ব্রিটিশ প্রশাসনের প্রধান করা হয়।
- ভারতে কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- লন্ডনে গভর্নর-জেনারেলকে পরামর্শ দেওয়ার জন্য কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া প্রবর্তন করা হয়।
- গুরুত্ব:
- ব্রিটিশ ক্রাউনের অধীনে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করা হয়।
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রশাসনিক ভূমিকার অবসান ঘটে।
- গুরুত্বপূর্ণ পদ: কেন্দ্রীয় সরকার - ভারতে প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রশাসনিক কাঠামো।
৫. চার্টার আইন ১৮৫৩
- কার্যকর: ১৮৫৩
- মূল বিধানাবলি:
- ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস (ICS) প্রতিষ্ঠা।
- নিয়োগের জন্য সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা চালু।
- ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস কমিশন গঠন।
- তাৎপর্য:
- একটি পেশাদার ব্যুরোক্র্যাসি তৈরি।
- ভারতে আধুনিক প্রশাসন-এর ভিত্তি স্থাপন।
- গুরুত্বপূর্ণ পদ: ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস (ICS) - ভারতের প্রথম পেশাদার প্রশাসনিক সংস্থা।
৬. ক্রাউন শাসন - গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া অ্যাক্ট ১৮৫৮
- কার্যকর: ১৮৫৮
- মূল বিধানাবলি:
- ভারতের নিয়ন্ত্রণ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি থেকে ব্রিটিশ ক্রাউন-এর হাতে হস্তান্তর।
- ভাইসরয় অফ ইন্ডিয়া প্রতিষ্ঠা ব্রিটিশ ক্রাউন-এর প্রতিনিধি হিসেবে।
- লন্ডনে ব্রিটিশ সেক্রেটারি অফ স্টেট ফর ইন্ডিয়া নিয়োগ।
- তাৎপর্য:
- ভারতে ক্রাউন শাসন-এর সূচনা।
- ভারতীয় প্রশাসনের ওপর সরাসরি ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা।
- গুরুত্বপূর্ণ পদ: ভাইসরয় অফ ইন্ডিয়া - ভারতে ব্রিটিশ প্রশাসনের প্রধান।
৭. ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অ্যাক্ট ১৮৬১
- কার্যকর: ১৮৬১
- মূল বিধানাবলি:
- ভাইসরয়ের কাউন্সিলে অ-সরকারি সদস্য যুক্ত।
- ভারতীয় সদস্যদের জন্য পরামর্শমূলক ভূমিকা অনুমোদন।
- প্রাদেশিক কাউন্সিল গঠন।
- তাৎপর্য:
- শাসনে ভারতীয় অংশগ্রহণ-এর প্রথম পদক্ষেপ।
- কূটনৈতিক প্রতিনিধিত্ব-এর ভিত্তি স্থাপন।
- গুরুত্বপূর্ণ পদ: অ-সরকারি সদস্য - কাউন্সিলে প্রথম ভারতীয় সদস্য।
৮. ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অ্যাক্ট ১৯০৯ (মরলে-মিন্টো সংস্কার)
- কার্যকর: ১৯০৯
- প্রধান বিধান:
- আইনসভা কাউন্সিলে ওজনযুক্ত ভোটিং পদ্ধতি চালু করা হয়।
- মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচনী এলাকা অনুমোদন করা হয়।
- অ-সরকারি সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়।
- তাৎপর্য:
- ভারতীয় প্রতিনিধিত্ব চালুর প্রথম বড় সংস্কার।
- সাম্প্রদায়িক বিভাজন গভীর করে।
- গুরুত্বপূর্ণ শব্দ: পৃথক নির্বাচনী এলাকা - বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জন্য পৃথক ভোটিং।
৯. ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অ্যাক্ট ১৯১৯ (মন্টেগু-চেমসফোর্ড সংস্কার)
- কার্যকর: ১৯১৯
- প্রধান বিধান:
- প্রদেশগুলিতে দ্বৈত শাসন চালু করা হয়।
- সংরক্ষিত ও হস্তান্তরিত বিষয় পৃথক করা হয়।
- শাসনে ভারতীয় অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা হয়।
- তাৎপর্য:
- স্বশাসন শুরুর সূচনা।
- ভবিষ্যৎ সংস্কারের মডেল হিসেবে দ্বৈত শাসন চালু।
- গুরুত্বপূর্ণ শব্দ: দ্বৈত শাসন - ব্রিটিশ ও ভারতীয় কর্মকর্তাদের দ্বৈত শাসনব্যবস্থা।
১০. গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া অ্যাক্ট ১৯৩৫
- কার্যকর: ১৯৩৫
- প্রধান বিধান:
- একটি ফেডারেল কাঠামো স্থাপন করা হয় ফেডারেল আদালত সহ।
- প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন চালু করা হয়।
- দুই ধরনের প্রদেশ স্থাপন করা হয়: গ্রুপ A এবং গ্রুপ B।
- নির্বাচনী সংস্কার এবং প্রতিনিধিত্ব চালু করা হয়।
- তাৎপর্য:
- ভারতের জন্য প্রথম সর্বাঙ্গীন সংবিধান।
- স্বাধীনতা-উত্তর সংবিধান ভিত্তি গড়ে তোলে।
- গুরুত্বপূর্ণ শব্দ: ফেডারেল আদালত - ভারতের প্রথম ফেডারেল বিচারব্যবস্থা।
| আইন | বছর | প্রধান বৈশিষ্ট্য | তাৎপর্য |
|---|---|---|---|
| রেগুলেটিং অ্যাক্ট ১৭৭৩ | ১৭৭৩ | ভারতের ওপর প্রথম আইনসভা আইন | ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণের সূচনা |
| পিটস অ্যাক্ট ১৭৯৩ | ১৭৯৩ | গভর্নর-জেনারেল প্রতিষ্ঠা | প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী হয় |
| চার্টার অ্যাক্ট ১৮১৩ | ১৮১৩ | ইংরেজি শিক্ষা চালু | প্রথম বড় শিক্ষানীতি |
| চার্টার অ্যাক্ট ১৮৩৩ | ১৮৩৩ | কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিষ্ঠা | কোম্পানি শাসনের অবসান |
| চার্টার অ্যাক্ট ১৮৫৩ | ১৮৫৩ | আইসিএস প্রতিষ্ঠা | পেশাদার ব্যুরোক্রেসি |
| গভর্নমেন্ট অব ইন্ডিয়া অ্যাক্ট ১৮৫৮ | ১৮৫৮ | ক্রাউন শাসন প্রতিষ্ঠা | সরাসরি ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণ |
| ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অ্যাক্ট ১৮৬১ | ১৮৬১ | অ-সরকারি সদস্য প্রবর্তন | প্রথম ভারতীয় অংশগ্রহণ |
| ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অ্যাক্ট ১৯০৯ | ১৯০৯ | পৃথক নির্বাচন প্রবর্তন | সাম্প্রদায়িক বিভাজন |
| ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অ্যাক্ট ১৯১৯ | ১৯১৯ | দ্বৈত শাসন প্রবর্তন | স্ব-শাসনের মডেল |
| গভর্নমেন্ট অব ইন্ডিয়া অ্যাক্ট ১৯৩৫ | ১৯৩৫ | ফেডারেল কাঠামো প্রতিষ্ঠা | স্বাধীনতা-উত্তর সংবিধানের ভিত্তি |