ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (C.11)
1. প্রতিষ্ঠা
1.1 পটভূমি ও গঠন
- ১৮৮৫ সালে বোম্বাইয়ে প্রতিষ্ঠিত।
- উদ্দেশ্য: রাজনৈতিক সংলাপের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করা এবং ভারতীয় জনগণের অভিযোগের সমাধান করা।
- অনুপ্রেরণা: ব্রিটিশ উদারনৈতিক ধারণা এবং লোকমান্য তিলকের স্বরাজ আহ্বান।
- প্রতিষ্ঠাতা সদস্যরা:
- এ.ও. হিউম – ব্রিটিশ সিভিল সার্ভেন্ট ও প্রতিষ্ঠাতা।
- ডব্লিউ.সি. বন্দ্যোপাধ্যায় – কংগ্রেসের প্রথম ভারতীয় সভাপতি (১৮৮৬)।
- প্রাথমিক সদস্যপদ: বেশিরভাগ শিক্ষিত ভারতীয় এবং ব্রিটিশ কর্মকর্তা।
- ভূমিকা: প্রথমে একটি চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী, পরে একটি রাজনৈতিক দলে রূপান্তরিত হয়।
1.2 কাঠামো ও নেতৃত্ব
- কাঠামো: কেন্দ্রীয় সংগঠনের সঙ্গে বার্ষিক অধিবেশন।
- নেতৃত্ব: সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত, সভাপতিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
- গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব:
- এ.ও. হিউম – প্রতিষ্ঠাতা ও মূল স্থপতি (১৮৮৫)।
- ডব্লিউ.সি. বন্দ্যোপাধ্যায় – প্রথম সভাপতি (১৮৮৫)।
- দাদাভাই নওরোজি – সভাপতি (১৮৮৬, ১৮৯৩, ১৯০৬)।
- গোপাল কৃষ্ণ গোখলে – নরমপন্থী নেতা, সভাপতি (১৯০৫)।
- বাল গঙ্গাধর তিলক – চরমপন্থী নেতা।
- মহাত্মা গান্ধী – কংগ্রেসকে রূপান্তরিত করেন, সভাপতি (১৯২৪)।
- জওহরলাল নেহরু – সভাপতি (১৯২৯, ১৯৩৬, ১৯৩৭); পূর্ণ স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- সুভাষ চন্দ্র বসু – সভাপতি (১৯৩৮, ১৯৩৯)।
1.3 উদ্দেশ্য ও বিবর্তন
- প্রাথমিক উদ্দেশ্য:
- স্বশাসন প্রচার করা।
- ব্রিটিশ নীতিকে প্রভাবিত করার জন্য একটি চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হিসেবে কাজ করা।
- পরবর্তী উদ্দেশ্য:
- স্বরাজ (স্বশাসন) অর্জন করা।
- একটি সাধারণ উদ্দেশ্যের অধীনে বিভিন্ন সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ করা।
- বিকাশ:
- একটি মিতব্যয়ী থেকে চরমপন্থী আন্দোলনে।
- সাংবিধানিক পদ্ধতি থেকে জনসাধারণের সমাবেশ-এ রূপান্তর।
2. গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন
2.1 ১৮৮৫ অধিবেশন (প্রতিষ্ঠা অধিবেশন)
- স্থান: বোম্বে।
- মুখ্য বিষয়:
- ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস-এর প্রথম অধিবেশন।
- এ.ও. হিউম ছিলেন সভাপতি।
- দাদাভাই নওরোজি ছিলেন মহাসচিব।
- ডব্লিউ.সি. বনার্জি ছিলেন সহ-সভাপতি।
- তাৎপর্য:
- জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-এর ভিত্তি স্থাপন।
- কংগ্রেসকে একটি রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠা।
2.2 ১৮৯০ অধিবেশন
- স্থান: কলকাতা।
- মুখ্য বিষয়:
- দাদাভাই নওরোজি ছিলেন সভাপতি।
- ডব্লিউ.সি. বনার্জি ছিলেন সহ-সভাপতি।
- মুখ্য প্রস্তাব: স্বশাসন প্রস্তাব করা।
- তাৎপর্য:
- প্রথমবারের মতো স্বশাসনের দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপিত হয়।
2.3 ১৯০৫ অধিবেশন
- স্থান: কলকাতা।
- প্রধান বিষয়গুলি:
- গোপাল কৃষ্ণ গোখলে ছিলেন সভাপতি।
- প্রধান প্রস্তাব: বঙ্গভঙ্গের পক্ষে সমর্থন।
- ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে গঠিত।
- তাৎপর্য:
- মধ্যপন্থী থেকে চরমপন্থী পর্যায়ে রূপান্তরের চিহ্ন।
- বঙ্গভঙ্গ স্বদেশি আন্দোলনের সূচনা করে।
২.৪ ১৯০৬ অধিবেশন
- স্থান: লাহোর।
- প্রধান বিষয়গুলি:
- দাদাভাই নওরোজি ছিলেন সভাপতি।
- প্রধান প্রস্তাব: স্বশাসনের দাবি।
- মুসলিম লীগ গঠিত।
- তাৎপর্য:
- সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তুলে ধরে।
- মুসলিম লীগ পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে গঠিত।
২.৫ ১৯০৭ অধিবেশন
- স্থান: লাহোর।
- প্রধান বিষয়গুলি:
- রাসবিহারী বসু ছিলেন সভাপতি।
- কংগ্রেসে বিভাজন:
- মধ্যপন্থীরা (নেতৃত্বে গোখলে)।
- চরমপন্থীরা (নেতৃত্বে বিপিন চন্দ্র পাল)।
- তাৎপর্য:
- কংগ্রেসে প্রথম বিভাজন।
- মধ্যপন্থীরা সাংবিধানিক পদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দেন।
- চরমপন্থীরা গণসংগঠনের পক্ষে সওয়াল করেন।
২.৬ ১৯১৬ অধিবেশন
- স্থান: লাহোর।
- প্রধান বিষয়গুলি:
- চিত্তরঞ্জন দাস ছিলেন সভাপতি।
- প্রধান প্রস্তাব: কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে লখনৌ চুক্তি।
- স্বশাসনের দাবি।
- তাৎপর্য:
- লখনৌ চুক্তি – প্রথম সর্বদলীয় চুক্তি।
- মুসলিম স্বার্থ রক্ষা করে।
- কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে ঐক্য।
2.7 ১৯২০ অধিবেশন
- স্থান: কলকাতা।
- মুখ্য বিষয়:
- সি. আর. দাস ছিলেন সভাপতি।
- মুখ্য প্রস্তাব: অসহযোগ আন্দোলন।
- মহাত্মা গান্ধী ছিলেন সভাপতি (১৯২৪)।
- তাৎপর্য:
- অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়।
- গান্ধীয় পদ্ধতি গৃহীত হয়।
- জনসাধারণের সমাবেশ শুরু হয়।
2.8 ১৯২৯ অধিবেশন
- স্থান: লাহোর।
- মুখ্য বিষয়:
- জওহরলাল নেহরু ছিলেন সভাপতি।
- মুখ্য প্রস্তাব: পূর্ণ স্বরাজ (সম্পূর্ণ স্বাধীনতা)।
- ১লা জানুয়ারি ১৯৩০ স্বাধীনতা দিবস ঘোষিত হয়।
- তাৎপর্য:
- পূর্ণ স্বরাজ ঘোষিত হয়।
- স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়।
- গান্ধীয় প্রভাব শক্তিশালী।
2.9 ১৯৩৬ অধিবেশন
- স্থান: লাহোর।
- মুখ্য বিষয়:
- জওহরলাল নেহরু ছিলেন সভাপতি।
- মুখ্য প্রস্তাব: ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনার সমর্থন।
- তাৎপর্য:
- ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনা আলোচিত হয়।
- ফেডারেল কাঠামো প্রস্তাবিত হয়।
2.10 ১৯৩৭ অধিবেশন
- স্থান: কলকাতা।
- মুখ্য বিষয়:
- জওহরলাল নেহরু ছিলেন সভাপতি।
- মুখ্য প্রস্তাব: ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনার সমর্থন।
- তাৎপর্য:
- ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনা অনুমোদিত হয়।
- ফেডারেল কাঠামো প্রস্তাবিত হয়।
2.11 ১৯৪২ অধিবেশন
- স্থান: বর্দোলি।
- মুখ্য বিষয়সমূহ:
- জওহরলাল নেহরু সভাপতি ছিলেন।
- মুখ্য প্রস্তাব: ভারত ছাড়ো আন্দোলন।
- তাৎপর্য:
- ভারত ছাড়ো আন্দোলন শুরু হয়।
- গণপ্রতিবাদ এবং সভ্য অবাধ্যতা।
- ব্রিটিশ শাসন চাপের মুখে পড়ে।
2.12 ১৯৪৬ সালের অধিবেশন
- স্থান: মাদ্রাজ।
- মুখ্য বিষয়সমূহ:
- জওহরলাল নেহরু সভাপতি ছিলেন।
- মুখ্য প্রস্তাব: ভারত বিভাজনের পক্ষে সমর্থন।
- অন্তর্বর্তী সরকার গঠন।
- তাৎপর্য:
- ভারত বিভাজন গৃহীত হয়।
- অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।
2.13 ১৯৪৭ সালের অধিবেশন
- স্থান: দিল্লি।
- মুখ্য বিষয়সমূহ:
- জওহরলাল নেহরু সভাপতি ছিলেন।
- মুখ্য প্রস্তাব: ভারত বিভাজন।
- নতুন রাজ্য গঠন।
- তাৎপর্য:
- ভারত বিভাজন চূড়ান্ত হয়।
- নতুন রাজ্য গঠিত হয়।
- ব্রিটিশ শাসনের অবসান।
3. গুরুত্বপূর্ণ তারিখ ও পদ
| পদ | তারিখ | বিবরণ |
|---|---|---|
| প্রতিষ্ঠা অধিবেশন | ১৮৮৫ | বোম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত |
| প্রথম সভাপতি | ১৮৮৫ | দাদাভাই নওরোজি |
| প্রথম ভারতীয় সভাপতি | ১৮৮৬ | ডব্লিউ. সি. বনার্জি |
| বঙ্গভঙ্গ | ১৯০৫ | স্বদেশি আন্দোলনের সূচনা করে |
| লখনউ চুক্তি | ১৯১৬ | কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে চুক্তি |
| পূর্ণ স্বরাজ | ১৯২৯ | পূর্ণ স্বাধীনতার ঘোষণা |
| ভারত ছাড়ো আন্দোলন | ১৯৪২ | গান্ধী কর্তৃক শুরু |
| ভারত বিভাজন | ১৯৪৭ | কংগ্রেস কর্তৃক চূড়ান্ত |
4. পরীক্ষামুখী তথ্য
-
এসএসসি, আরআরবি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট:
- কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৮৫ সালে।
- প্রথম সভাপতি: দাদাভাই নওরোজি।
- প্রথম ভারতীয় সভাপতি: ডব্লিউ. সি. বন্দ্যোপাধ্যায়।
- পূর্ণ স্বরাজ ঘোষিত হয় ১৯২৯ সালে।
- ভারত ছাড়ো আন্দোলন শুরু হয় ১৯৪২ সালে।
- ভারত বিভাগ মেনে নেওয়া হয় ১৯৪৭ সালে।
- লক্ষ্ণৌ চুক্তি ১৯১৬ সালে।
- কংগ্রেস বিভক্ত হয় ১৯০৭ সালে।
- কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের ঐক্য ১৯১৬ সালে।
- গান্ধী সভাপতি হন ১৯২৪ সালে।
-
পার্থক্য:
- নরমপন্থী বনাম চরমপন্থী:
- নরমপন্থী: সাংবিধানিক পদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দিত।
- চরমপন্থী: গণসংগঠনের পক্ষে সওয়াল করত।
- কংগ্রেস বনাম মুসলিম লীগ:
- কংগ্রেস: জাতীয়তাবাদী, ধর্মনিরপেক্ষ।
- মুসলিম লীগ: মুসলিম স্বার্থকে কেন্দ্র করে।
- নরমপন্থী বনাম চরমপন্থী:
-
গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব:
- দাদাভাই নওরোজি – প্রথম সভাপতি।
- ডব্লিউ. সি. বন্দ্যোপাধ্যায় – প্রথম ভারতীয় সভাপতি।
- গোপাল কৃষ্ণ গোখলে – নরমপন্থীদের নেতা।
- মহাত্মা গান্ধী – চরমপন্থীদের নেতা।
- জওহরলাল নেহরু – ১৯২৯, ১৯৩৬, ১৯৩৭ সালের সভাপতি।
-
গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব:
- স্বশাসন (১৮৯০)।
- লক্ষ্ণৌ চুক্তি (১৯১৬)।
- পূর্ণ স্বরাজ (১৯২৯)।
- ভারত ছাড়ো আন্দোলন (১৯৪২)।
- ভারত বিভাগ (১৯৪৭)।