ইউরোপীয়দের আগমন
ইউরোপীয়দের আগমন
১. পর্তুগিজ
আগমন
- ভারতে আগমন: ১৪৯৮ সালে ফ্রান্সিসকো ডি আলমেইডা কালিকটে (কোঝিকোড়ে) অবতরণের মাধ্যমে।
- প্রধান ঘটনাবলি:
- ১৪৯৯: কালিকটে পর্তুগিজরা একটি ঘাঁটি স্থাপন করে।
- ১৫০২: আলবুকার্ক গোয়া দখল করে ভারতে পর্তুগিজদের প্রথম দুর্গ স্থাপন করে।
- ১৫১০: আফোনসো ডি আলবুকার্ক দিউ দখল করে।
সম্প্রসারণ
- নিয়ন্ত্রিত প্রধান বন্দরগুলি:
- গোয়া (১৫১০)
- দিউ (১৫১০)
- দামান (১৫২২)
- চাউল (১৫৩৪)
- মালাক্কা (১৫১১)
- মালাক্কা প্রণালী (১৫১১)
- বাণিজ্য নেটওয়ার্ক:
- ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য রুট প্রতিষ্ঠা করে।
- মসলা বাণিজ্যে (গোলমরিচ, লবঙ্গ, জায়ফল) মনোনিবেশ করে।
গভর্নরগণ
- আফোনসো ডি আলবুকার্ক (১৫০৩–১৫১৫): ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পর্তুগিজ অধিকৃতি সম্প্রসারণ করে।
- ফ্রান্সিসকো ডি আলমেইডা (১৫০৫–১৫০৯): ভারতের প্রথম ভাইসরয়, পর্তুগিজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করে।
ব্রিটিশদের সঙ্গে সংঘাত
- সংঘাতের প্রধান বিষয়গুলি:
- বাণিজ্য রুট ও বন্দর নিয়ন্ত্রণের প্রতিযোগিতা।
- বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে ব্রিটিশ বনাম পর্তুগিজ।
- স্থানীয় শাসকদের সঙ্গে জোট গড়ে পর্তুগিজ আধিপত্য ভেঙে দেওয়ার ব্রিটিশ প্রচেষ্টা।
- প্রধান ঘটনাবলি:
- ১৬১২: ব্রিটিশরা গোয়া পর্তুগিজদের কাছ থেকে দখল করে।
- ১৬১৩: সিরমৌর চুক্তি (ব্রিটিশরা গঙ্গায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে)।
- ১৭৪৯: ব্রিটিশরা চুঁচুরাহ পর্তুগিজ দুর্গ দখল করে।
- ১৭৫৯: ব্রিটিশরা চন্দননগর পর্তুগিজ দুর্গ দখল করে।
২. ডাচ
আগমন
- ভারতে আগমন: ১৬০৫ সালে জন পিটারসজুন কোয়েন পুলিকাটে অবতরণ করেন।
- প্রধান ঘটনাবলি:
- ১৬০৫: পুলিকাটে একটি কারখানা প্রতিষ্ঠা।
- ১৬১৯: নাগাপট্টিনামে একটি কারখানা প্রতিষ্ঠা।
- ১৬৩৩: সুরাটে একটি কারখানা প্রতিষ্ঠা।
- ১৬৩৯: মাসুলিপট্টনামে একটি কারখানা প্রতিষ্ঠা।
সম্প্রসারণ
- প্রধান বন্দরগুলি নিয়ন্ত্রণ:
- পুলিকাট
- নাগাপট্টিনাম
- সুরাট
- মাসুলিপট্টনাম
- মালাক্কা (১৬৪১)
- বাণিজ্য নেটওয়ার্ক:
- মসলা, বস্ত্র এবং পরে অপিয়ামের ওপর গুরুত্ব দেওয়া।
- ১৬০২ সালে ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি (ভিওসি) প্রতিষ্ঠা।
সাফল্য
- প্রধান সাফল্য:
- ভারত মহাসাগরে শক্তিশালী নৌ-উপস্থিতি গড়ে তোলা।
- মসলার প্রধান বাণিজ্য পথগুলি নিয়ন্ত্রণ।
- নতুন কৃষিপদ্ধতি ও ফসলের প্রবর্তন।
- ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি (ভিওসি) গঠন, যা বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী বাণিজ্যিক সংস্থা ছিল।
ব্রিটিশদের সঙ্গে সংঘাত
- সংঘাতের প্রধান বিষয়:
- বাণিজ্য পথ ও বন্দর নিয়ন্ত্রণের প্রতিযোগিতা।
- বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে ব্রিটিশ বনাম ডাচ।
- ব্রিটিশরা জোট ও সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে ডাচ আধিপত্য ভাঙার চেষ্টা করে।
- প্রধান ঘটনাবলি:
- ১৬৩৯: ব্রিটিশরা মাসুলিপট্টনামের ডাচ কারখানা দখল করে।
- ১৬৬১: লন্ডন চুক্তি (ব্রিটিশরা পর্তুগিজ রাজকন্যা ক্যাথরিন অব ব্রাগানজাকে বিয়ে করে, ফলে পর্তুগিজরা বোম্বাই ব্রিটিশদের অর্পণ করে)।
- ১৭৪০-এর দশক: বঙ্গোপসাগর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ব্রিটিশ ও ডাচদের মধ্যে যুদ্ধ।
- ১৭৫০-এর দশক: ব্রিটিশরা ধীরে ধীরে ভারতে ডাচ প্রভাব উৎখাত করে।
৩. ইংরেজ/ব্রিটিশ
আগমন
- ভারতে আগমন: ১৬০৮ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি (EIC) সূরতে নামে।
- গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা:
- ১৬০৮: সূরতে প্রথম ব্রিটিশ কারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৬১২: ব্রিটিশরা গোয়া পর্তুগিজদের কাছ থেকে দখল করে।
- ১৬১৩: সিরমৌর চুক্তি (ব্রিটিশরা গঙ্গায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে)।
- ১৬৩৯: ব্রিটিশরা মাসুলিপট্টমে ডাচ কারখানা দখল করে।
প্রাথমিক বাণিজ্য
- গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পণ্য:
- বস্ত্র (ক্যালিকো, মসলিন)
- মসলা (গোলমরিচ, লবঙ্গ)
- মূল্যবান ধাতু
- বাণিজ্য কেন্দ্র:
- সূরত
- মাসুলিপট্টম
- বোম্বে (১৬৬৮)
- কলকাতা (১৬৯০)
অন্যান্য ইউরোপীয়দের সঙ্গে সংঘাত
- সংঘাতের প্রধান বিন্দু:
- ব্রিটিশ বনাম পর্তুগিজ: ব্রিটিশরা গোয়া (১৬১২), চন্দননগর (১৭৫৯) ও চুঁচুরা (১৭৪৯) দখল করে।
- ব্রিটিশ বনাম ডাচ: ব্রিটিশরা মাসুলিপট্টম (১৬৩৯) দখল করে এবং ধীরে ধীরে ডাচ প্রভাব উৎখাত করে।
- ব্রিটিশ বনাম ফরাসি: ভারত মহাসাগরে ও বাণিজ্য আধিপত্যের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
- গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা:
- ১৬৬১: লন্ডন চুক্তি (ব্রিটিশরা পর্তুগিজ রাজকন্যার সঙ্গে বিবাহ করে, ফলে বোম্বে অধিগ্রহণ)।
- ১৭৪০–১৭৫০: ভারতে অ্যাঙ্গলো-ফরাসি প্রতিদ্বন্দ্বিতা (যেমন প্লাসির যুদ্ধ, ১৭৫৭)।
- ১৭৫৭: প্লাসির যুদ্ধ – বাংলার নবাবের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ বিজয়, ভারতে ব্রিটিশ আধিপত্যের সূচনা।
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (SSC, RRB)
| বিষয় | গুরুত্বপূর্ণ তথ্য |
|---|---|
| পর্তুগিজ আগমন | ১৪৯৮ – ভাস্কো দা গামা কালিকটে পৌঁছান |
| পর্তুগিজ সম্প্রসারণ | গোয়া (১৫১০), দিউ (১৫১০), চাউল (১৫৩৪) |
| পর্তুগিজ গভর্নররা | ভাস্কো দা গামা, আলফোনসো দ্য আলবুকার্ক |
| পর্তুগিজ বনাম ব্রিটিশ | ব্রিটিশরা গোয়া দখল করে (১৬১২), চন্দননগর (১৭৫৯), চুচুরা (১৭৪৯) |
| ডাচ আগমন | ১৬০৫ – জান পিটারসুন কুন পুলিকাটে পৌঁছান |
| ডাচ সম্প্রসারণ | পুলিকাট, নাগাপট্টিনাম, সুরাট, মাসুলিপট্টনাম |
| ডাচ বনাম ব্রিটিশ | ব্রিটিশরা মাসুলিপট্টনাম দখল করে (১৬৩৯), ডাচ প্রভাব উৎখাত করে |
| ব্রিটিশ আগমন | ১৬০৮ – ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সুরাটে পৌঁছায় |
| ব্রিটিশ প্রাথমিক বাণিজ্য | বস্ত্র, মসলা, মূল্যবান ধাতু |
| ব্রিটিশ বনাম পর্তুগিজ | ব্রিটিশরা গোয়া দখল করে (১৬১২), চন্দননগর (১৭৫৯), চুচুরা (১৭৪৯) |
| ব্রিটিশ বনাম ডাচ | ব্রিটিশরা মাসুলিপট্টনাম দখল করে (১৬৩৯), ডাচ প্রভাব উৎখাত করে |
গুরুত্বপূর্ণ পদ ও সংজ্ঞা
| পদ | সংজ্ঞা |
|---|---|
| ভাস্কো দা গামা | কেপ অফ গুড হোপ হয়ে ভারতে পৌঁছানো প্রথম পর্তুগিজ অনুসন্ধানকারী (১৪৯৮) |
| আলফোনসো দ্য আলবুকার্ক | গোয়া ও মালাক্কা দখলকারী পর্তুগিজ অ্যাডমিরাল |
| ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি (ভিওসি) | ১৬০২ সালে প্রতিষ্ঠিত, বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী বাণিজ্যিক কোম্পানি |
| ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি (ইআইসি) | ১৬০০ সালে প্রতিষ্ঠিত, ভারতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে |
| প্লাসির যুদ্ধ | ১৭৫৭ – বাংলার নবাবের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ বিজয়, ভারতে ব্রিটিশ আধিপত্যের সূচনা |
| সিরমৌর চুক্তি | ১৬১৩ – ব্রিটিশরা গঙ্গায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে |
| লন্ডন চুক্তি | ১৬৬১ – ব্রিটিশরা পর্তুগিজ রাজকন্যার সঙ্গে বিবাহের মাধ্যমে বোম্বাই দখল করে |
পর্তুগিজ, ডাচ ও ব্রিটিশদের মধ্যে পার্থক্য
| দিক | পর্তুগিজ | ডাচ | ব্রিটিশ |
|---|---|---|---|
| আগমন | ১৪৯৮ | ১৬০৫ | ১৬০৮ |
| প্রধান বন্দর | গোয়া, দিউ, চাউল | পুলিকাট, নাগাপট্টিনাম, সুরাট | সুরাট, মাসুলিপট্টিনাম, বোম্বাই |
| বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু | মসলা, বস্ত্র | মসলা, বস্ত্র, অপিয়াম | বস্ত্র, মসলা, অপিয়াম |
| সামরিক শক্তি | নৌ আধিপত্য | নৌ আধিপত্য | নৌ ও সামরিক আধিপত্য |
| শাসনব্যবস্থা | ভাইসরয় পদ্ধতি | ভিওসি প্রশাসন | ইআইসি প্রশাসন |
| ব্রিটিশদের সঙ্গে সংঘাত | গোয়া, চাঁদননগর, চুচুরা দখল | মাসুলিপট্টিনাম দখল | ডাচ ও পর্তুগিজ প্রভাব উৎখাত |