গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক পরিভাষা
D.6] গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক পরিভাষা
1. মূল পদাবলীর শব্দকোষ
1.1 অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ
-
অক্ষাংশ:
- কাল্পনিক রেখা পূর্ব-পশ্চিম দিকে বিস্তৃত।
- বিষুবরেখা থেকে উত্তর বা দক্ষিণ দূরত্ব পরিমাপ করে।
- পরিসর: 0° থেকে 90° উত্তর ও দক্ষিণ।
- উদাহরণ: কর্কটক্রান্তি রেখা (২৩.৫° উত্তর), মকরক্রান্তি রেখা (২৩.৫° দক্ষিণ)।
-
দ্রাঘিমাংশ:
- কাল্পনিক রেখা উত্তর-দক্ষিণ দিকে বিস্তৃত।
- গ্রিনউইচ মধ্যরেখা (0°) থেকে পূর্ব বা পশ্চিম দূরত্ব পরিমাপ করে।
- পরিসর: 0° থেকে 180° পূর্ব ও পশ্চিম।
- উদাহরণ: আন্তর্জাতিক তারিখরেখা (১৮০°)।
1.2 সময় অঞ্চল
-
সময় অঞ্চল:
- একটি অঞ্চল যা একই মানক সময় অনুসরণ করে।
- দ্রাঘিমাংশের ভিত্তিতে, সাধারণত ১৫° ব্যবধানে।
- উদাহরণ: ভারতীয় মানক সময় (IST) হল UTC+০৫:৩০।
-
আন্তর্জাতিক তারিখরেখা:
- একটি কাল্পনিক রেখা যা প্রায় ১৮০° দ্রাঘিমাংশ বরাবর বিস্তৃত।
- এটি অতিক্রম করলে একটি দিন যোগ বা বিয়োগ হয়।
- বিশ্ব ভ্রমণ ও সময় সমন্বয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
1.3 জলবায়ু অঞ্চল
| জলবায়ু অঞ্চল | বিবরণ | উদাহরণ দেশ |
|---|---|---|
| উষ্ণমণ্ডলীয় | গরম ও আর্দ্র, প্রচুর বৃষ্টিপাত | ভারত, ব্রাজিল |
| মৃদু | মাঝারি তাপমাত্রা, স্পষ্ট ঋতু | যুক্তরাষ্ট্র, চীন |
| মেরু | অত্যন্ত ঠান্ডা, তুষার ও বরফ | কানাডা, অ্যান্টার্কটিকা |
| মরুভূমি | অত্যন্ত শুষ্ক, চরম তাপমাত্রা | সাহারা, অস্ট্রেলিয়া |
1.4 বাস্তুতন্ত্র
-
ইকোসিস্টেম:
- পরিবেশের জীবিত এবং অজীব উপাদানগুলির সমন্বয়ে গঠিত জীবজন্তুদের একটি সম্প্রদায়।
- উদাহরণ: গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বৃষ্টিবন, মরুভূমি, সামুদ্রিক।
-
জীববৈচিত্র্য:
- পৃথিবী বা নির্দিষ্ট কোনো আবাসস্থলে জীবনের বৈচিত্র্য।
- বাস্তুসংস্থার ভারসাম্য ও টেকসই উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
১.৫ ভূ-আকৃতি
| ভূ-আকৃতি | বিবরণ | উদাহরণ |
|---|---|---|
| পর্বত | খাড়া ঢালযুক্ত উঁচু ভূ-আকৃতি | হিমালয় |
| প্লাটো | সমতল উঁচু ভূ-আকৃতি | দক্ষিণ ভারতের প্লাটো |
| উপত্যকা | পাহাড় বা পর্বতের মাঝে নিচু অঞ্চল | গঙ্গা উপত্যকা |
| সমভূমি | সমতল, নিচু ভূমি | ইন্দো-গঙ্গা সমভূমি |
১.৬ প্রাকৃতিক সম্পদ
-
নবায়নযোগ্য সম্পদ:
- প্রাকৃতিকভাবে পুনরায় পূরণ হতে পারে এমন সম্পদ।
- উদাহরণ: সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, পানি।
-
অনবায়নযোগ্য সম্পদ:
- দ্রুত পুনরায় পূরণ হতে না পারে এমন সম্পদ।
- উদাহরণ: কয়লা, তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস।
১.৭ নিষ্কাশন ব্যবস্থা
-
নিষ্কাশন অববাহিকা:
- একটি নদী এবং এর উপনদীগুলি দ্বারা নিষ্কাশিত অঞ্চল।
- উদাহরণ: গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র অববাহিকা।
-
নদী ব্যবস্থা:
- নদী এবং এর উপনদীগুলির সমষ্টি।
- উদাহরণ: সিন্ধু নদী ব্যবস্থা।
১.৮ মাটির প্রকারভেদ
| মাটির ধরন | বিবরণ | উদাহরণ অঞ্চল |
|---|---|---|
| পলল | পুষ্টিগুণে ভরপূর, নদীর জমা দ্বারা গঠিত | ইন্দো-গঙ্গা সমভূমি |
| ব্ল্যাক কটন মাটি | আর্দ্রতা ধরে রাখে, শুষ্ক অঞ্চলে পাওয়া যায় | মহারাষ্ট্র, গুজরাট |
| লাল ও হলুদ মাটি | ক্রান্তীয় অঞ্চলে পাওয়া যায় | তামিলনাড়ু, ওড়িশা |
১.৯ জীবাঞ্চল
- জীবাঞ্চল:
- একটি বৃহৎ ভৌগোলিক অঞ্চল যার রয়েছে স্বতন্ত্র জলবায়ু, উদ্ভিদ ও বন্যপ্রাণ।
- উদাহরণ: ক্রান্তীয় বর্ষা অরণ্য, টুন্ড্রা, সাভানা।
১.১০ গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক পদাবলি (এসএসসি/রেলওয়ে ফোকাস)
-
ভূমধ্যসাগরীয় রেখা:
- কাল্পনিক রেখা যা পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে ভাগ করে।
- ০° অক্ষাংশ।
- জলবায়ু ও সময় অঞ্চলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
-
প্রধান মধ্যাহ্ন রেখা:
- ০° দ্রাঘিমাংশ, যুক্তরাজ্যের গ্রিনিচ অতিক্রম করে।
- সমন্বিত সর্বজনীন সময় (UTC)-এর ভিত্তি।
-
ক্যান্সার রেখা:
- ২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশ।
- সূর্যের সরাসরি রশ্মির উত্তরতম বিন্দু চিহ্নিত করে।
-
মকর রেখা:
- ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষাংশ।
- সূর্যের সরাসরি রশ্মির দক্ষিণতম বিন্দু চিহ্নিত করে।
-
আর্কটিক বৃত্ত:
- ৬৬.৫° উত্তর অক্ষাংশ।
- আর্কটিক অঞ্চলের দক্ষিণ সীমানা চিহ্নিত করে।
-
অ্যান্টার্কটিক বৃত্ত:
- ৬৬.৫° দক্ষিণ অক্ষাংশ।
- অ্যান্টার্কটিক অঞ্চলের উত্তর সীমানা চিহ্নিত করে।
-
আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা:
- ১৮০° দ্রাঘিমাংশ।
- বিশ্বব্যাপী সময় ও ভ্রমণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
-
মহাদেশীয় শেলফ:
- উপকূল থেকে বিস্তৃত জলাধার ভূ-রূপ।
- সমুদ্রজ সম্পদে ভরপূর।
-
মহাদেশীয় প্রান্ত (Continental Margin):
- মহাদেশীয় শেলফ ও গভীর মহাসাগরীয় তলের মধ্যবর্তী অঞ্চল।
-
মহাদেশীয় স্খলন (Continental Drift):
- আলফ্রেড ভেগেনারের প্রস্তাবিত তত্ত্ব, যা বলে মহাদেশগুলো সময়ের সাথে সাথে সরে যায়।
-
প্লেট টেকটনিক্স (Plate Tectonics):
- পৃথিবীর লিথোস্ফিয়ারিক প্লেটগুলোর গতিবিধি ব্যাখ্যা করে এমন তত্ত্ব।
- ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরি ও পর্বত গঠনের কারণ।
-
হট স্পট (Hot Spot):
- এমন স্থান যেখানে ম্যাগমা ম্যান্টল থেকে ক্রাস্টে উঠে আসে।
- উদাহরণ: হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ।
-
টেকটনিক প্লেট (Tectonic Plates):
- পৃথিবীর ক্রাস্টের বৃহৎ অংশ যা একে অপরের সাপেক্ষে সরে।
- উদাহরণ: ভারতীয় প্লেট, ইউরেশীয় প্লেট।
-
অভিসারী সীমান্ত (Convergent Boundary):
- যেখানে দুটি প্লেট পরস্পরের দিকে সরে।
- উদাহরণ: হিমালয় (ভারতীয় ও ইউরেশীয় প্লেট)।
-
বিচ্যুত সীমান্ত (Divergent Boundary):
- যেখানে দুটি প্লেট পরস্পর থেকে দূরে সরে।
- উদাহরণ: মিড-অ্যাটলান্টিক রিজ।
-
রূপান্তর সীমান্ত (Transform Boundary):
- যেখানে দুটি প্লেট পরস্পরের পাশ দিয়ে সরে।
- উদাহরণ: স্যান অ্যান্ড্রিয়াস ফল্ট।
১.১১ গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক তথ্য (এসএসসি/রেলওয়ে ফোকাস)
-
ভারতের স্ট্যান্ডার্ড টাইম (IST):
- UTC+০৫:৩০।
- ৮২.৫° পূর্ব দ্রাঘিমাংশের ভিত্তিতে।
-
ক্ষেত্রফলে বৃহত্তম দেশ:
- রাশিয়া (১৭.১ মিলিয়ন কিমি²)।
-
ক্ষেত্রফলে ক্ষুদ্রতম দেশ:
- ভ্যাটিকান সিটি (০.৪৪ কিমি²)।
-
জনসংখ্যায় বৃহত্তম দেশ:
- চীন (১.৪ বিলিয়ন)।
-
জনসংখ্যায় ক্ষুদ্রতম দেশ:
- ভ্যাটিকান সিটি (প্রায় ৮০০)।
-
বৃহত্তম মরুভূমি:
- অ্যান্টার্কটিকা (১৪ মিলিয়ন কিমি²)।
-
বৃহত্তম উষ্ণমণ্ডলীয় মরুভূমি:
- সাহারা মরুভূমি (৯.২ মিলিয়ন কিমি²)।
-
বৃহত্তম দ্বীপ:
- গ্রিনল্যান্ড (২.১৬ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার)।
-
বৃহত্তম উপদ্বীপ:
- আরব উপদ্বীপ (৩.০ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার)।
-
বৃহত্তম ব-দ্বীপ:
- গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র ব-দ্বীপ (১০৫,০০০ বর্গকিলোমিটার)।
-
উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ:
- মাউন্ট এভারেস্ট (৮,৮৪৮ মিটার)।
-
উচ্চতম প্লাটো:
- তিব্বতি প্লাটো (সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪,৫০০ মিটার)।
-
দীর্ঘতম নদী:
- নীল নদী (৬,৬৫০ কিলোমিটার)।
-
ভারতের দীর্ঘতম নদী:
- গঙ্গা (২,৫২৫ কিলোমিটার)।
-
দীর্ঘতম উপকূলরেখা:
- কানাডা (২৪৩,৭৪০ কিলোমিটার)।
-
দীর্ঘতম হাইওয়ে:
- ট্রান্স-কানাডা হাইওয়ে (৭,৮২১ কিলোমিটার)।
-
দীর্ঘতম রেলপথ:
- ট্রান্স-সাইবেরিয়ান রেলওয়ে (৯,২৮৯ কিলোমিটার)।
-
দীর্ঘতম সুড়ঙ্গ:
- গোটার্ড বেস টানেল (৫৭ কিলোমিটার)।
-
দীর্ঘতম সেতু:
- দানিয়াং-কুনশান গ্র্যান্ড ব্রিজ (১৬৪.৮ কিলোমিটার)।
-
দীর্ঘতম বাঁধ:
- থ্রি গর্জেস বাঁধ (২,৩৩৮ কিলোমিটার)।
-
দীর্ঘতম ঝুলন্ত সেতু:
- হাংঝো বে সেতু (৩৫.৬ কিলোমিটার)।
-
দীর্ঘতম ভূগর্ভস্থ রেল:
- সাংহাই মেট্রো (৬৬৮ কিলোমিটার)।
-
ভারতের দীর্ঘতম রেল:
- হাওড়া থেকে ব্যান্ডেল (১৬২ কিলোমিটার)।
-
ভারতের দীর্ঘতম রেলপথ:
- কান্দলা থেকে কন্যাকুমারী (৩,৩২৩ কিলোমিটার)।
-
ভারতের দীর্ঘতম জাতীয় সড়ক:
- এনএইচ ৪৪ (৩,৭৪৫ কিলোমিটার)।
-
ভারতের দীর্ঘতম নদী:
- গঙ্গা (২,৫২৫ কিলোমিটার)।
-
দক্ষিণ ভারতের দীর্ঘতম নদী:
- গোদাবরী (১,৪৬৫ কিলোমিটার)।
-
পূর্ব ভারতের দীর্ঘতম নদী:
- গঙ্গা (২,৫২৫ কিলোমিটার)।
-
পশ্চিম ভারতের দীর্ঘতম নদী:
- গোদাবরী (১,৪৬৫ কিলোমিটার)।
-
উত্তর ভারতের দীর্ঘতম নদী:
- গঙ্গা (২,৫২৫ কিলোমিটার)।
-
মধ্য ভারতের দীর্ঘতম নদী:
- গোদাবরী (১,৪৬৫ কিলোমিটার)।
-
দক্ষিণ ভারতের দীর্ঘতম নদী:
- গোদাবরী (১,৪৬৫ কিমি)।
-
পূর্ব ভারতের দীর্ঘতম নদী:
- গঙ্গা (২,৫২৫ কিমি)।
-
পশ্চিম ভারতের দীর্ঘতম নদী:
- গোদাবরী (১,৪৬৫ কিমি)।
-
উত্তর ভারতের দীর্ঘতম নদী:
- গঙ্গা (২,৫২৫ কিমি)।
-
মধ্য ভারতের দীর্ঘতম নদী:
- গোদাবরী (১,৪৬৫ কিমি)।
-
দক্ষিণ ভারতের দীর্ঘতম নদী:
- গোদাবরী (১,৪৬৫ কিমি)।