সিটিসি সিস্টেম – ভারতীয় রেলওয়েতে কেন্দ্রীভূত ট্রাফিক কন্ট্রোল
১. সিটিসি কী?
কেন্দ্রীভূত ট্রাফিক কন্ট্রোল (সিটিসি) হল একটি আধুনিক রিলে ও মাইক্রো-প্রসেসর ভিত্তিক সিগন্যালিং সিস্টেম যা একজন নিয়ন্ত্রককে একটি কেন্দ্রীয় অবস্থান থেকে একটি বৃহৎ অঞ্চল জুড়ে দূর থেকে পয়েন্ট ও সিগন্যাল পরিচালনা করতে সক্ষম করে, যার ফলে “ব্লক ওয়ার্কিং”-কে “অবিচ্ছিন্ন ট্রেন চলাচলের কর্তৃত্ব সহ প্রত্যক্ষ ওয়ার্কিং”-এ রূপান্তরিত করে।
২. প্রযুক্তিগত স্থাপত্য
| উপ-সিস্টেম | কার্যাবলী | সাধারণ মাধ্যম |
|---|---|---|
| কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ইউনিট (ওসিসি) | ট্রেন ডেসপ্যাচিং, রুট সেটিং | ল্যান / ওএফসি |
| স্টেশন টার্মিনাল ইউনিট (এসটিইউ) | স্থানীয় ইন্টারলকিং নির্বাহ | কপার কোয়াড / ই১ |
| ট্র্যাক-সাইড সরঞ্জাম | পয়েন্ট মেশিন, এলইডি সিগন্যাল, অ্যাক্সেল-কাউন্টার | ডেডিকেটেড কেবল / ওএফসি |
| যোগাযোগ লিংক | রিডান্ডেন্ট ২ এমবিপিএস ওএফসি রিং | এসটিএম-১/৪ এসডিএইচ |
| ব্যাক-আপ মোড | স্লাইড সহ প্যানেল / জরুরি স্থানীয় প্যানেল | — |
- সুরক্ষা অখণ্ডতা স্তর (এসআইএল-৪) – সেনেলেক ৫০১২৮/৫০১২৯
- প্রতিক্রিয়া সময় ≤ ১.৫ সেকেন্ড (কমান্ড থেকে সিগন্যাল অ্যাসপেক্ট পরিবর্তন)
- উপলব্ধতার লক্ষ্য ≥ ৯৯.৯৭ % (ভারতীয় রেলওয়ে স্পেসিফিকেশন: আইআরএস: এস-৯৯/২০১৭)
৩. ঐতিহাসিক মাইলফলক
| বছর | ঘটনা |
|---|---|
| ১৯২৭ | নাগপুর–আসানসোল মালবাহী বিভাগে প্রথম সিটিসি (জিআইপিআর) – ১৪০ কিমি |
| ১৯৫৯ | আসানসোলে অল-ইন্ডিয়া প্যানেল চালু, ৬০ কিমি নিয়ন্ত্রণ স্ট্রেচ সহ |
| ১৯৮৭ | ইলেকট্রনিক রুট রিলে ইন্টারলকিং (আরআরআই) ইটারসিতে সিটিসির সাথে ইন্টারফেস করা হয় |
| ২০০৩ | মুম্বাই সেন্ট্রাল–ভিরার (৬০ কিমি) – ডব্লিউআর-এ প্রথম কালার-লাইট সিটিসি |
| ২০১২ | ঘোটি–ইগতপুরী (৫৮ কিমি) – এমআরএসএস প্রকল্পের অধীনে প্রথম ওএফসি-ভিত্তিক সিটিসি |
| ২০১৯ | খড়গপুর–বোকারো স্টিল সিটি (২৬৭ কিমি) – দীর্ঘতম একটানা সিটিসি চালু |
| ২০২২ | “ওয়ান-ক্লিক সিটিসি” – এসইসিআর-এর জন্য সিআরআইএস দ্বারা ক্লাউড-ভিত্তিক জিইউআই চালু |
৪. বর্তমান অবস্থা (২০২৩-২৪)
- সিটিসির অধীনে মোট রুট কিমি: ≈ ৬,৮০০ কিমি (≈ আইআর নেটওয়ার্কের ১১ %)
- জোনাল শীর্ষস্থানীয়: সাউথ ইস্ট সেন্ট্রাল রেলওয়ে – ১,৪২০ কিমি
- চলমান কাজ:
– ভোপাল–ইটারসি–নাগপুর ৩য় লাইন (৪১২ কিমি) – লক্ষ্য ০৩/২০২৫
– বিজয়ওয়াড়া–গুডুর ৪র্থ লাইন (৪৫৫ কিমি) – এএফটিসি ও টিএএসএস-এর সাথে সমন্বিত - বাজেট বরাদ্দ ২০২৩-২৪: ₹ ২,৯৪০ কোটি এসএস-২০২৫ (সিগন্যাল ও টেলিকম) অধীনে
- মিশন ২০৩০ লক্ষ্য: ২৫,০০০ কিমি সিটিসি / এমএমএলএস-এর অধীনে আনা হবে
৫. সুবিধা ও বৈশিষ্ট্য
✅ নতুন ট্র্যাক ছাড়াই বিভাগীয় ক্ষমতা ১৫-২৫ % বৃদ্ধি করে
✅ শারীরিক টোকেন / কাগজি কর্তৃত্ব দূর করে – শুধুমাত্র “অবিচ্ছিন্ন কর্তৃত্ব”
✅ অটোমেটিক ব্লক সিগন্যালিং (এবিএস) ওভারলে সহ ১৬০ কিমি/ঘণ্টা অপারেশন সমর্থন করে
✅ এফওআইএস ও টিএমএস-এর সাথে সমন্বিত – রিয়েল-টাইম ট্রেন প্লটিং
✅ শক্তি সাশ্রয় – নিষ্ক্রিয়তা হ্রাসের কারণে ৮-১২ % ট্র্যাকশন পাওয়ার
৬. প্রধান মান ও নথি
- আইআরএস:এস-৯৯/২০১৭ – “কেন্দ্রীভূত ট্রাফিক কন্ট্রোলের জন্য স্পেসিফিকেশন”
- আইআরএস:এস-৫১ – রুট রিলে ইন্টারলকিং সামঞ্জস্যতা
- আরডিএসও/এসপিএন/১৭৭/২০১৯ – অ্যাক্সেল-কাউন্টার ইন্টারফেস
- সেনেলেক ইএন-৫০১২৮/৫০১২৯ – সফটওয়্যার সুরক্ষা
৭. প্রায়শই জিজ্ঞাসিত তথ্য (মেমরি ক্যাপসুল)
- স্বাধীন ভারতের প্রথম সিটিসি বিভাগ: আসানসোল–সিতারামপুর (১৯৫৯)
- দীর্ঘতম সিটিসি বিভাগ: খড়গপুর–বোকারো (২৬৭ কিমি)
- সিটিসি ব্যাক-আপ সহ প্রথম জোনাল সদর দপ্তর: বিলাসপুর (এসইসিআর) – ২০২০
- একটি প্যানেল থেকে নিয়ন্ত্রিত সর্বাধিক সংখ্যক স্টেশন: ৬১ (হাওড়া–বর্ধমান, ইআর)
- দুটি সিটিসি নিয়ন্ত্রিত স্টেশনের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব: ৫ কিমি (বোরিভালি–গোরেগাঁও, ডব্লিউআর)
- সিটিসি + অটোমেটিক ট্রেন প্রোটেকশন (ইটিসিএস-২) পাইলট: গোধরা–বড়োদরা (৬৬ কিমি) – ২০২৩
৮. ১৫+ এফএকিউ – সিটিসি সিস্টেম
১. ভারতীয় রেলওয়ের কোন বিভাগটি প্রথম সিটিসি প্রযুক্তি দিয়ে সজ্জিত হয়েছিল?
উত্তর: নাগপুর–আসানসোল (১৯২৭)
২. সিটিসি কোন এসআইএল স্তর অনুযায়ী তার সুরক্ষা মান অর্জন করে?
উত্তর: এসআইএল-৪
৩. আইআরএস:এস-৯৯/২০১৭ অনুযায়ী একটি সিটিসি সিস্টেমের লক্ষ্য উপলব্ধতা কত?
উত্তর: ≥ ৯৯.৯৭ %
৪. দীর্ঘতম একটানা সিটিসি বিভাগ (২৬৭ কিমি) কোন বিভাগে অবস্থিত?
উত্তর: এসইআর-এর খড়গপুর বিভাগ
৫. আধুনিক সিটিসি নেটওয়ার্কের জন্য প্রাথমিকভাবে কোন যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহৃত হয়?
উত্তর: রিডান্ডেন্ট ২ এমবিপিএস ওএফসি রিং
৬. সিটিসি লাইন ক্ষমতা আনুমানিক কত শতাংশ বৃদ্ধি করে?
উত্তর: ১৫-২৫ %
৭. ভারতের প্রথম কালার-লাইট সিটিসি কোন স্টেশনগুলির মধ্যে চালু হয়েছিল?
উত্তর: মুম্বাই সেন্ট্রাল–ভিরার (২০০৩)
৮. ৩১.০৩.২০২৩ অনুযায়ী কোন জোন সিটিসি রুট কিলোমিটারে নেতৃত্ব দেয়?
উত্তর: সাউথ ইস্ট সেন্ট্রাল রেলওয়ে (এসইসিআর)
৯. এবিএস ওভারলে সহ একটি সিটিসি বিভাগে সর্বাধিক অনুমোদিত গতি কত?
উত্তর: ১৬০ কিমি/ঘণ্টা
১০. কোন সংস্থা "ওয়ান-ক্লিক সিটিসি" ক্লাউড-ভিত্তিক জিইউআই তৈরি করেছে?
উত্তর: সিআরআইএস
১১. সিটিসিতে প্রতিক্রিয়া সময় (কমান্ড থেকে অ্যাসপেক্ট পরিবর্তন) যেন অতিক্রম না করে:
উত্তর: ১.৫ সেকেন্ড
১২. সিটিসি "ব্লক ওয়ার্কিং"-কে কোন ধরনের ওয়ার্কিং-এ রূপান্তরিত করে?
উত্তর: অবিচ্ছিন্ন কর্তৃত্ব সহ প্রত্যক্ষ ওয়ার্কিং
১৩. সিটিসির সফটওয়্যার সুরক্ষা প্রয়োজনীয়তা কোন স্পেসিফিকেশন নিয়ন্ত্রণ করে?
উত্তর: সেনেলেক ইএন-৫০১২৮/৫০১২৯
১৪. এসএস-২০২৫ অধীনে সিগন্যালিং কাজের (সিটিসি সহ) জন্য ২০২৩-২৪ বাজেট বরাদ্দ হল:
উত্তর: ₹ ২,৯৪০ কোটি
১৫. মিশন ২০৩০ সিটিসি / এমএমএলএস-এর অধীনে কত রুট কিমি আনার পরিকল্পনা করেছে?
উত্তর: ২৫,০০০ কিমি
১৬. সিটিসি কোন ফ্রেইট সিস্টেমের সাথে সমন্বিত হলে রিয়েল-টাইম ট্রেন প্লটিং প্রদান করে?
উত্তর: এফওআইএস (ফ্রেইট অপারেশনস ইনফরমেশন সিস্টেম)
১৭. যে পাইলট বিভাগে সিটিসি ইটিসিএস-২ এটিপির সাথে সমন্বিত করা হচ্ছে:
উত্তর: গোধরা–বড়োদরা (ডব্লিউআর)
রিভিশন টিপ: মনে রাখুন “সি-৩” – সিটিসি অবিচ্ছিন্ন কর্তৃত্ব দেয়, ক্ষমতা ~২০ % বৃদ্ধি করে, এবং একটি অফিস থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়।