রাজ্য সরকার
রাজ্যের রাজ্যপাল
ভূমিকা ও ক্ষমতা
- নিযুক্ত করেন: ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে।
- মেয়াদ: রাজ্যপাল ৫ বছরের জন্য নিযুক্ত হন এবং আগেও অপসারণ করা যেতে পারে।
- শপথ গ্রহণ: হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি বা জ্যেষ্ঠতম বিচারপতি দ্বারা প্রদান করা হয়।
- ক্ষমতা:
- রাজ্য বিধানসভা আহ্বান, মুলতবি ও বিলুপ্ত করা।
- প্রতি অধিবেশনের শুরুতে বিধানসভায় ভাষণ দেওয়া।
- বিধানসভায় পাস হওয়া বিলে সম্মতি প্রদান।
- অ-অর্থবিল পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠানো।
- মুখ্যমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী নিযুক্ত করা।
- রাজ্য সরকারের নামমাত্র প্রধান হিসেবে কাজ করা।
পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- রাজ্যপালের ভূমিকা: সাংবিধানিক প্রধান, রাজ্য নির্বাহীর অংশ নন।
- রাজ্যপালের বিবেচনাধীন ক্ষমতা: কোনো বিলে সম্মতি আটকে রাখতে পারেন, তবে অর্থবিল পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠাতে পারেন না।
- মুখ্যমন্ত্রী নিযুক্তি: রাজ্যপাল সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে মুখ্যমন্ত্রী নিযুক্ত করেন।
পার্থক্য: রাজ্যপাল বনাম রাষ্ট্রপতি
| বৈশিষ্ট্য | রাজ্যপাল | ভারতের রাষ্ট্রপতি |
|---|---|---|
| নিযুক্ত করেন | ভারতের রাষ্ট্রপতি | জনগণের দ্বারা নির্বাচন |
| মেয়াদ | নির্দিষ্ট মেয়াদ নেই | পাঁচ বছর |
| ভূমিকা | সাংবিধানিক প্রধান | রাষ্ট্র ও সরকারের প্রধান |
| নির্বাহী ক্ষমতা | সীমিত; পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করেন | পূর্ণ নির্বাহী ক্ষমতা |
মুখ্যমন্ত্রী
ভূমিকা ও দায়িত্ব
- নির্বাচিত হন: মুখ্যমন্ত্রী জনগণের দ্বারা নির্বাচিত হন এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের ভিত্তিতে রাজ্যপাল তাঁকে নিযুক্ত করেন।
- মেয়াদ: যতক্ষণ তিনি বিধানসভার আস্থা ভোগ করেন।
- প্রধান দায়িত্ব:
- মন্ত্রিসভা গঠন করা।
- রাজ্যের প্রশাসন পরিচালনা করা।
- নীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা।
- মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করা।
- জাতীয় ফোরামে রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করা।
ক্ষমতা ও কার্য
- নির্বাহী ক্ষমতা: বাস্তব নির্বাহী ক্ষমতা ধারণ করেন।
- বিধায়িকা ভূমিকা: বিধানসভায় বিল উপস্থাপন করতে পারেন।
- বিচারিক ভূমিকা: রাজ্যপালকে অপসারণের জন্য রাষ্ট্রপতিকে সুপারিশ করতে পারেন।
- জরুরি ক্ষমতা: রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কোনো জরুরি অবস্থা ঘোষণার ক্ষমতা নেই।
পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- মুখ্যমন্ত্রীর অপসারণ: বিধানসভায় অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে অপসারণ করা যেতে পারে।
- ন্যূনতম বয়স: সংবিধানে কোনো নির্দিষ্ট বয়সসীমা উল্লেখ নেই।
- মেয়াদ: নির্দিষ্ট নয়; রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমর্থনের ওপর নির্ভর করে।
রাজ্য আইনসভা ও মন্ত্রিসভা
রাজ্য আইনসভা
- গঠন:
- বিধানসভা: জনগণের দ্বারা নির্বাচিত।
- বিধান পরিষদ: রাজ্যের ওপর নির্ভর করে নিযুক্ত বা নির্বাচিত।
- কার্যাবলি:
- আইন প্রণয়ন।
- বাজেট অনুমোদন।
- নির্বাহীর তদারকি।
- জনগণের প্রতিনিধিত্ব।
মন্ত্রিসভা
- গঠন:
- মুখ্যমন্ত্রী: মন্ত্রিসভার প্রধান।
- ক্যাবিনেট মন্ত্রী: প্রধান বিভাগের প্রধান।
- বিহীন মন্ত্রী: বিভিন্নভাবে সহায়তা করেন।
- গঠন প্রক্রিয়া:
- রাজ্যপালের পরামর্শে মুখ্যমন্ত্রী কর্তৃক গঠিত।
- বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের ভিত্তিতে।
- কার্যাবলি:
- নীতি প্রণয়ন।
- সরকারি কর্মসূচির বাস্তবায়ন।
- প্রশাসনিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- মন্ত্রিসভা: বিধানসভার মোট সদস্যসংখ্যার ১৫%-এর বেশি হতে পারবে না।
- ক্যাবিনেটের আকার: সাধারণত ১৫ থেকে ৩০ জন মন্ত্রীর মধ্যে হয়ে থাকে।
- মন্ত্রীর মেয়াদ: বিধানসভার আস্থার ওপর নির্ভর করে।
পার্থক্য: বিধানসভা বনাম বিধান পরিষদ
| বৈশিষ্ট্য | বিধানসভা | বিধান পরিষদ |
|---|---|---|
| গঠন | নির্বাচিত | নির্বাচিত বা মনোনীত |
| মেয়াদ | পাঁচ বছর | নির্দিষ্ট নয় |
| ক্ষমতা | আইন প্রণয়ন, বাজেট, তদারকি | কেবল প্রস্তাব পাস করতে পারে |
| ভূমিকা | প্রধান আইনসভা | পরামর্শক সংস্থা |
গুরুত্বপূর্ণ তারিখ ও পদ
- আর্টিকেল ১৬৮: রাজ্য আইনসভার গঠন ও ক্ষমতা নিয়ে বিধান করে।
- আর্টিকেল ১৬৯: বিধান পরিষদ সৃষ্টি বা বিলুপ্তির বিধান দেয়।
- আর্টিকেল ১৬৪: মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা নির্ধারণ করে।
- আর্টিকেল ১৬৫: রাজ্যপালের নিয়োগ নিয়ে বিধান করে।
- আর্টিকেল ১৬৬: রাজ্যপালকে বিধানসভা আহ্বান, মুলতবি ও বিলুপ্ত করার ক্ষমতা দেয়।
উদাহরণ: উত্তর প্রদেশ
- রাজ্যপাল: শ্রীমতী আনন্দীবেন
- মুখ্যমন্ত্রী: যোগী আদিত্যনাথ
- বিধানসভা: ৪০০ সদস্য
- বিধান পরিষদ: অস্তিত্ব নেই (২০২৩ থেকে)
সারসংক্ষেপ টেবিল: রাজ্য সরকারের গঠন
| উপাদান | ভূমিকা | নিযুক্ত করেন | মেয়াদ |
|---|---|---|---|
| রাজ্যপাল | সাংবিধানিক প্রধান | ভারতের রাষ্ট্রপতি | নির্দিষ্ট মেয়াদ নেই |
| মুখ্যমন্ত্রী | প্রকৃত নির্বাহী প্রধান | বিধানসভা | যতদিন আস্থা থাকে |
| বিধানসভা | আইন প্রণয়নকারী সংস্থা | জনগণ | পাঁচ বছর |
| বিধান পরিষদ | পরামর্শক সংস্থা (যদি থাকে) | রাজ্যপাল (কিছু রাজ্যে) | নির্দিষ্ট নয় |
| মন্ত্রিসভা | নির্বাহী সংস্থা | মুখ্যমন্ত্রী | যতদিন আস্থা থাকে |