পারমাণবিক ভারত
পারমাণবিক ভারত – রেলওয়ে পরীক্ষার জন্য সম্পূর্ণ GK ক্যাপসুল
1. ভারতের পারমাণবিক যাত্রা – মূল মাইলফলক
| বছর | ঘটনা | অবস্থান / মন্তব্য |
|---|---|---|
| 1945 | টাটা ইনস্টিটিউট অফ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চ (TIFR) স্থাপিত | মুম্বাই—ভারতীয় পারমাণবিক বিজ্ঞানের কেন্দ্র |
| 1954 | পারমাণবিক শক্তি বিভাগ (DAE) গঠিত | ডঃ হোমি জে. ভাবার নেতৃত্বে, সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে রিপোর্ট করে |
| 1956 | এশিয়ার প্রথম গবেষণা চুল্লি “অপ্সরা” ক্রিটিক্যাল হয় | বার্ক, ট্রম্বে—৮০% সমৃদ্ধ U-Al খাদ ব্যবহার করে |
| 1960 | কানাডা-ভারত কলম্বো পরিকল্পনা | CIRUS (40 MW) চুল্লি সরবরাহ; শুরু ১৯৬০, ক্রিটিক্যাল ১৯৬৩ |
| 1974 | পোখরান-I (“স্মাইলিং বুদ্ধা”) | ভারতের প্রথম শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক বিস্ফোরণ (১৮ মে) |
| 1983-87 | ধ্রুব (100 MW) চুল্লি চালু | অস্ত্র-গ্রেড প্লুটোনিয়ামের জন্য স্বদেশী পথ |
| 1998 | পোখরান-II (শক্তি সিরিজ) | ৫টি পরীক্ষা (১১-১৩ মে) – ফিউশন ও ফিশন ডিভাইস |
| 2008 | ভারত-নির্দিষ্ট NSG ছাড়পত্র | বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত |
| 2010 | বেসামরিক দায় আইন প্রণীত | পারমাণবিক ক্ষতি আইন, ২০১০ |
| 2017 | ২০তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ চুল্লি (KGS-3) যুক্ত | কাইগা, কর্ণাটক – 700 MWe PHWR |
| 2023 | কাকরাপারে ১০ম স্বদেশীকৃত 700 MWe PHWR | ইউনিট-৪ নির্মাণ শুরু |
2. নিউক্লিয়ার পাওয়ার কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া লিমিটেড (NPCIL) – এক নজরে
| পরামিতি | পরিসংখ্যান (জানুয়ারি ২০২৪ অনুযায়ী) |
|---|---|
| স্থাপিত ক্ষমতা | 8180 MWe (23টি চুল্লি) |
| নির্মাণাধীন | 8টি চুল্লি = 7000 MWe |
| মোট বিদ্যুতের % | ~3.1 % |
| বৃহত্তম স্থান | KKNPP, তামিলনাড়ু (2×1000 MWe VVER, আরও 2টি নির্মাণাধীন) |
| চুল্লির প্রকার | PHWR (220/540/700), BWR (TAPS), VVER-1000 (KKNPP) |
| ২০২৫ লক্ষ্য | 13,480 MWe (DAE Vision-2025) |
3. পারমাণবিক প্রতিষ্ঠান ও তাদের প্রধানগণ (সর্বশেষ)
| প্রতিষ্ঠান (বছর) | সদর দপ্তর | বর্তমান চেয়ারম্যান / সচিব |
|---|---|---|
| DAE (1954) | মুম্বাই | ডঃ অজিত কুমার মোহান্তি |
| BARC (1957) | ট্রম্বে, মুম্বাই | ডঃ এ. কে. মোহান্তি (অতিরিক্ত দায়িত্ব) |
| NPCIL (1987) | মুম্বাই | শ্রী বি. সি. পাঠক |
| পারমাণবিক শক্তি নিয়ন্ত্রক বোর্ড (AERB) | মুম্বাই | শ্রী ডি. কে. শুক্লা |
| IGCAR (কলপক্কম, 1971) | তামিলনাড়ু | ডঃ অরুণ কুমার ভাদুরি |
4. ভারতের তিন-স্তর বিশিষ্ট পারমাণবিক কর্মসূচি
| স্তর | জ্বালানি | চুল্লি | উপজাত | অবস্থা |
|---|---|---|---|---|
| I | প্রাকৃতিক U | PHWR 220/700 | Pu-239 | বাণিজ্যিক—২৩টি চুল্লি |
| II | Pu-239 + Th-232 | ফাস্ট ব্রিডার (500 MWe) | U-233 | PFBR—50 MWt FBTR চলমান; 500 MWe PFBR চালু হবে ২০২৪ |
| III | U-233 + Th-232 | অ্যাডভান্সড হেভি ওয়াটার রিঅ্যাক্টর (AHWR) | — | নকশা সম্পূর্ণ, ডেমো প্ল্যান্ট পরিকল্পিত |
5. ইউরেনিয়াম ও থোরিয়াম মজুদ
| খনিজ | ভারতের অংশ (বিশ্ব র্যাঙ্ক) | মূল খনি |
|---|---|---|
| ইউরেনিয়াম | 74,000 tU (≈ 1 %—১৩তম) | জাদুগুডা (ঝাড়খণ্ড), তুম্মালাপাল্লে (অন্ধ্রপ্রদেশ), লাম্বাপুর-তেলেঙ্গানা |
| থোরিয়াম | 8-10 লক্ষ t ThO₂ (25 %—১ম) | মনাজাইট উপকূল—কেরালা, তামিলনাড়ু, ওড়িশা |
6. এক-লাইনার দ্রুত-ফায়ার তথ্য (RRB প্রিয়)
- ভারত একমাত্র দেশ যার থোরিয়াম-ভিত্তিক ৩-স্তর কর্মসূচি পরিকল্পিত।
- পোখরান-I (1974) ভারতকে পারমাণবিক ডিভাইস বিস্ফোরণকারী ৬ষ্ঠ জাতি বানায়।
- পোখরান-II (1998) কোড নাম “অপারেশন শক্তি”; থার্মোনিউক্লিয়ার ডিভাইসের ফলন ≈ 45 kT।
- CIRUS ও ধ্রুব—একমাত্র চুল্লি যা ভারতীয় অস্ত্রাগারের জন্য অস্ত্র-গ্রেড Pu সরবরাহ করে।
- তারাপুর (TAPS-1&2)—প্রাচীনতম বাণিজ্যিক চুল্লি (১৯৬৯)—মূলত মার্কিন (GE) BWR।
- কুডানকুলাম—বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ স্থান (6×1000 MWe পরিকল্পিত)।
- PFBR (500 MWe) কলপক্কমে ভারতকে রাশিয়ার পর দ্বিতীয় দেশ করবে যা FBR বাণিজ্যিকীকরণ করে।
- ইন্দিরা গান্ধী প্রথম “শান্তি ও উন্নয়নের জন্য পরমাণু” বাক্যাংশটি ১৯৭০-এর দশকে ব্যবহার করেন।
- India not signatory to NPT & CTBT but adheres to voluntary moratorium since 1998.
- পারমাণবিক দায় আইন, ২০১০—পরিচালকের দায় সীমাবদ্ধ ₹১,৫০০ কোটি।
- DAE Vision-2032—লক্ষ্য 22,480 MWe; Vision-2050—লক্ষ্য 63 GWe + 275 GWe থোরিয়াম থেকে।
7. MCQ অনুশীলন সেট (রেলওয়ে প্যাটার্ন)
Q1. ভারতের প্রথম পারমাণবিক চুল্লি অপ্সরা ক্রিটিক্যাল হয়েছিল—
Ans: ৪ আগস্ট ১৯৫৬
Q2. কাকে ভারতের পারমাণবিক কর্মসূচির জনক বলা হয়?
Ans: ডঃ হোমি জাহাঙ্গীর ভাবা
Q3. ১৯৭৪-এর পোখরান পরীক্ষার কোড নাম ছিল—
Ans: স্মাইলিং বুদ্ধা
Q4. ভারতে ক্ষমতা অনুযায়ী বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র হল—
Ans: কুডানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র (KKNPP)
Q5. নিচের কোনটি ভারতের ইউরেনিয়াম খনি নয়?
Ans: হুসেনপুর (বিহার) – খনি নয়
Q6. স্বদেশী নকশার 700 MWe PHWR কাকরাপার, গুজরাটে এবং এছাড়াও স্থাপন করা হচ্ছে—
Ans: রাজস্থানে (RAPP-7&8)
Q7. ফাস্ট ব্রিডার টেস্ট রিঅ্যাক্টর (FBTR) অবস্থিত—
Ans: কলপক্কম, তামিলনাড়ু
Q8. পারমাণবিক শক্তি নিয়ন্ত্রক বোর্ড (AERB) গঠিত হয়—
Ans: ১৯৮৩ (১৫ নভেম্বর)
Q9. ভারত মে ১৯৯৮-এ ৫টি পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়; থার্মোনিউক্লিয়ার ডিভাইসটি পরীক্ষা করা হয়—
Ans: ১১ মে (শক্তি-I)
Q10. ২০০৮-এর NSG ছাড়পত্রের পর ভারতকে বিদ্যুৎ চুল্লি সরবরাহকারী একমাত্র দেশ হল—
Ans: রাশিয়া (কুডানকুলাম)
Q11. ভারতে থোরিয়াম প্রধানত পাওয়া যায়—
Ans: মনাজাইট (একটি ফসফেট খনিজ) আকারে
Q12. ভারত স্বাক্ষরকারী নয়—
Ans: NPT ও CTBT উভয়েই
Q13. বেসামরিক পারমাণবিক ক্ষতি আইন, ২০১০-এর অধীনে সর্বোচ্চ পরিচালক দায় হল—
Ans: ₹১,৫০০ কোটি
Q14. কোন চুল্লি ভারতের কৌশলগত কর্মসূচির জন্য অস্ত্র-গ্রেড প্লুটোনিয়াম উৎপাদন করে?
Ans: ধ্রুব
Q15. মোট মিশ্রণে ভারতের পারমাণবিক বিদ্যুতের অংশ প্রায়—
Ans: ৩ %
Q16. 500 MWe প্রোটোটাইপ ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর ব্যবহার করে—
Ans: মিশ্র অক্সাইড (MOX) জ্বালানি (Pu-U)
Q17. ভারতীয় প্রসঙ্গে "শান্তির জন্য পরমাণু" স্লোগান প্রথম তুলে ধরেন—
Ans: ইন্দিরা গান্ধী
8. দ্রুত-দর্শন সারণী – পারমাণবিক বিস্ফোরণ ও ফলন
| পরীক্ষা | তারিখ | ডিভাইস | দাবিকৃত ফলন |
|---|---|---|---|
| পোখরান-I | ১৮ মে ১৯৭৪ | ১টি ফিশন | 8-12 kT |
| শক্তি-1 | ১১ মে ১৯৯৮ | থার্মোনিউক্লিয়ার | 45 kT |
| শক্তি-2 | ১১ মে ১৯৯৮ | ফিশন | 12 kT |
| শক্তি-3,4,5 | ১৩ মে ১৯৯৮ | সাব-কিলোটন | প্রতিটি 0.2-0.5 kT |
9. আন্তর্জাতিক চুক্তি ও ছাড়পত্র
- ২০০৮ – NSG ছাড়পত্র → ভারত NPT স্বাক্ষর না করেই বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তি বাণিজ্য করতে পারে।
- ২০১০ – কনভেনশন অন সাপ্লিমেন্টারি কম্পেনসেশন (CSC) অনুমোদিত।
- ২০১৪ – INFCIRC/754 – IAEA-এর সাথে পৃথকীকরণ পরিকল্পনা।
- ২০১৬ – জাপান-ভারত পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত (২০১৭ থেকে কার্যকর)।
এক-লাইনার ও সারণীগুলি বারবার সংশোধন করুন; প্রতিটি রেলওয়ে GK বিভাগে “পারমাণবিক ভারত” থেকে অন্তত ১-২টি প্রশ্নের আশা রাখুন।