ভারতের শিল্প
ভারতের শিল্প
১. ঐতিহাসিক দিক
১.১ প্রাথমিক শিল্প উন্নয়ন
- প্রাক-শিল্প যুগ: ভারতের হস্তশিল্প শিল্প ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী, বিশেষ করে বস্ত্র ও হস্তশিল্প, যা ইউরোপে রপ্তানি হতো।
- উপনিবেশিক প্রভাব: ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন ঐতিহ্যবাহী শিল্পগুলোকে ব্যাহত করে, যা ডি-ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশনের দিকে নিয়ে যায়। ভারতের বস্ত্র কলগুলো ধ্বংস করা হয় এবং ব্রিটিশ শিল্পগুলো বাজারে আধিপত্য বিস্তার করে।
- প্রথম শিল্প নীতি (১৯৪৮): স্বাধীনতার পর ভারত পরিকল্পিত অর্থনীতি গ্রহণ করে, যেখানে স্বনির্ভরতা ও শিল্পায়নের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
১.২ প্রাথমিক বছরগুলোতে প্রধান শিল্প কেন্দ্র
| শিল্প | অবস্থান | প্রধান বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|
| বস্ত্র | মুম্বই | প্রথম বস্ত্র কল প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৫৪ সালে |
| আয়রন ও স্টিল | জামশেদপুর | টিস্কো প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯১৯ সালে |
| সিমেন্ট | চেন্নাই | প্রথম সিমেন্ট কারখানা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯০৪ সালে |
১.৩ ১৯৫৬ সালের শিল্প নীতি
- উদ্দেশ্য: ভারী শিল্প ও স্বনির্ভরতা প্রচার করা।
- পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা: প্রথম দুটি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় (১৯৫১–১৯৫৬, ১৯৫৬–১৯৬১) শিল্প বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
- রাষ্ট্রীয় খাত সম্প্রসারণ: ভারী শিল্পগুলোকে জাতীয়করণ করা হয় এবং সরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়।
১.৪ ১৯৯১-পরবর্তী অর্থনৈতিক সংস্কার
- উদারীকরণ, বেসরকারীকরণ ও বিশ্বায়ন (এলপিজি): ১৯৯১ সালে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও শিল্প আধুনিকীকরণের জন্য শুরু হয়।
- প্রভাব: দ্রুত শিল্প বৃদ্ধি ঘটে, বিশেষ করে বেসরকারি খাত ও সেবা শিল্পে।
২. বর্তমান পর্যায়
২.১ শিল্প কাঠামো
| খাত | জিডিপির অংশ (২০২২) | প্রধান শিল্প |
|---|---|---|
| উৎপাদন | ~১৭.৫% | বস্ত্র, অটোমোবাইল, ইলেকট্রনিক্স |
| সেবা | ~৫৪% | আইটি, ব্যাংকিং, পর্যটন |
| কৃষি | ~১৩.৫% | - |
২.২ প্রধান শিল্প খাত
- বস্ত্র শিল্প: সর্বাধিক কর্মসংস্থানকারী, জিডিপিতে অবদান ~৪%।
- অটোমোবাইল শিল্প: দ্রুত বর্ধনশীল খাত, টাটা, মারুতি ও মাহিন্দ্রার মতো কোম্পানি রয়েছে।
- তথ্য প্রযুক্তি (আইটি): আইটি সেবায় ভারত বিশ্বনেতা, টিসিএস, ইনফোসিস ও উইপ্রোর মতো প্রধান কোম্পানি রয়েছে।
- ফার্মাসিউটিক্যালস: ভারত “বিশ্বের ফার্মেসি”, র্যানব্যাক্সি ও সিপলার মতো প্রধান খেলোয়াড় রয়েছে।
২.৩ শিল্প প্রবৃদ্ধির সূচক
- জিডিপি অবদান: উৎপাদন খাত জিডিপিতে ~১৭.৫% অবদান রাখে।
- কর্মসংস্থান: ৩৫ মিলিয়নের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে।
- রপ্তানি অবদান: শিল্প রপ্তানি মোট রপ্তানির ~২৫%।
২.৪ উদীয়মান খাত
- নবায়নযোগ্য শক্তি: ভারত সৌর শক্তির বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম উৎপাদক।
- জৈব প্রযুক্তি: ফার্মাসিউটিক্যাল ও বায়োটেক স্টার্টআপে দ্রুত প্রবৃদ্ধি।
- সবুজ শক্তি: ২০১০-এর ন্যাশনাল সোলার মিশন ও ২০২০-র প্রোডাকশন লিঙ্কড ইনসেনটিভ (পিএলআই) প্রকল্পের মতো সরকারি উদ্যোগ।
৩. নীতিমালা
৩.১ ১৯৫৬-এর শিল্প নীতি
- উদ্দেশ্য: ভারী শিল্প এবং স্বনির্ভরতা প্রচার করা।
- মুখ্য বৈশিষ্ট্য:
- সরকারি খাতের উপর গুরুত্ব।
- ইস্পাত, যন্ত্রপাতি এবং বিদ্যুৎ-এর প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করা।
- পরিকল্পনা কমিশন গঠন।
3.2 ১৯৯১-এর শিল্প নীতি
- উদ্দেশ্য: অর্থনীতিকে উদারীকরণ এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা।
- মুখ্য বৈশিষ্ট্য:
- শিল্পের নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ।
- লাইসেন্সের প্রয়োজনীয়তা হ্রাস।
- বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ উৎসাহিত করা।
3.3 ২০১৭-এর শিল্প নীতি
- উদ্দেশ্য: উৎপাদন এবং ব্যবসা সহজীকরণ প্রচার করা।
- মুখ্য বৈশিষ্ট্য:
- “মেক ইন ইন্ডিয়া” উদ্যোগের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করা।
- পদ্ধতির সরলীকরণ।
- এমএসএমই এবং স্টার্টআপগুলির জন্য প্রণোদনা।
3.4 প্রধান নীতি ও প্রকল্প
| নীতি | বছর | মুখ্য বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|
| শিল্প নীতি প্রস্তাব, ১৯৫৬ | ১৯৫৬ | ভারী শিল্প এবং সরকারি খাতের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করা |
| উদারীকরণ, বেসরকারীকরণ, বিশ্বায়ন | ১৯৯১ | বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য অর্থনৈতিক সংস্কার |
| মেক ইন ইন্ডিয়া | ২০১৪ | উৎপাদন এবং বিশ্ব বিনিয়োগ আকর্ষণ প্রচার করা |
| উৎপাদন সংযুক্ত প্রণোদনা (পিএলআই) প্রকল্প | ২০২০ | উৎপাদন এবং রপ্তানির জন্য প্রণোদনা |
| জাতীয় উৎপাদন নীতি | ২০১৫ | প্রবৃদ্ধি, প্রতিযোগিতা এবং টেকসইতার প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করা |
3.5 মুখ্য আইন ও বিধিনিষ্ঠ
- শিল্প বিবাদ আইন, ১৯৪৭: শ্রম সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ করে।
- কারখানা আইন, ১৯৪৮: নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করে।
- বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা আইন (ফেমা), ১৯৯৯: বিদেশি বিনিয়োগ ও বিনিময় নিয়ন্ত্রণ করে।
- পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি), ২০১৭: পণ্য ও পরিষেবার জন্য একীভূত কর ব্যবস্থা।
৩.৬ গুরুত্বপূর্ণ তারিখ
- ১৮৫৪: মুম্বাইয়ে প্রথম টেক্সটাইল মিল স্থাপিত হয়।
- ১৯১৯: জামশেদপুরে টিস্কো প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৫৬: শিল্পনীতি প্রস্তাব পাস হয়।
- ১৯৯১: অর্থনৈতিক উদারীকরণ শুরু হয়।
- ২০১৪: “মেক ইন ইন্ডিয়া” উদ্যোগ চালু হয়।
- ২০২০: উৎপাদন সংযুক্ত প্রণোদনা (পিএলআই) প্রকল্প চালু হয়।
৩.৭ গুরুত্বপূর্ণ পদ ও সংজ্ঞা
- প্রকৌশল খাত: সরকারের মালিকানাধীন ও নিয়ন্ত্রিত শিল্প।
- বেসরকারি খাত: ব্যক্তি বা কোম্পানির মালিকানাধীন ও নিয়ন্ত্রিত শিল্প।
- এমএসএমই: ক্ষুদ্র, অতিক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ।
- মেক ইন ইন্ডিয়া: উৎপাদন বাড়াতে সরকারের উদ্যোগ।
- পিএলআই প্রকল্প: উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়াতে উৎপাদন সংযুক্ত প্রণোদনা।
৩.৮ প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (এসএসসি, আরআরবি)
-
প্রশ্ন: ভারতের বৃহত্তম শিল্প কোনটি?
উত্তর: টেক্সটাইল শিল্প। -
প্রশ্ন: ভারতে প্রথম টেক্সটাইল মিল কবে স্থাপিত হয়?
উত্তর: ১৮৫৪ সালে মুম্বাইয়ে। -
প্রশ্ন: “মেক ইন ইন্ডিয়া” উদ্যোগের উদ্দেশ্য কী?
উত্তর: উৎপাদন বাড়ানো এবং বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগ আকর্ষণ করা। -
প্রশ্ন: ভারতে শ্রম সম্পর্ণ কোন আইন নিয়ন্ত্রণ করে?
উত্তর: শিল্প বিবাদ আইন, ১৯৪৭। -
প্রশ্ন: ভারতের জিডিপিতে উৎপাদন খাতের বর্তমান অবদান কত?
উত্তর: ~১৭.৫% (২০২২)।